টাইব্রেকারের আগে ল্যাপটপে এমবাপ্পের পেনাল্টি দেখেছিলেন সালাহরা

সংগৃহীত ছবি
ডালাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের জন্য অত্যন্ত আধুনিক বিশ্লেষণী পদ্ধতি কাজে লাগিয়েছে মিসরের কোচিং স্টাফ। পেনাল্টি শুট-আউট শুরুর ঠিক কয়েক মিনিট আগে খেলোয়াড়েরা একটি ল্যাপটপ স্ক্রিনের সামনে জড়ো হন।
শুট-আউট শুরুর ঠিক আগে মিসরের কৌশলী দল একটি জরুরি বৈঠক আয়োজন করে রায়ানের পেনাল্টি সংক্রান্ত অভ্যাসগুলো তুলে ধরতে। খেলোয়াড়েরা ১৭ জানুয়ারি লেভান্তের বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ২-২ ড্রয়ের ম্যাচের একটি ল্যাপটপ ক্লিপ দেখেন, যেখানে মনোযোগ দেওয়া হয় ৫৮ মিনিটের একটি স্পট-কিকের ওপর। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক নাটকীয়ভাবে গোললাইনে দুলে দুলে এমবাপ্পেকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও ফরাসি ফরোয়ার্ড ছিলেন সম্পূর্ণ অবিচল।
এই সূক্ষ্ম প্রস্তুতি তুলে ধরে আধুনিক ফুটবলে তথ্য-বিশ্লেষণ নির্ভর কাজের গুরুত্ব। নকআউট পর্বের এই ভাগ্য-নির্ভর মুহূর্তকে শুধু কপালের হাতে ছেড়ে দিতে চাননি মিসরের ম্যানেজমেন্ট। তারা চেয়েছিল, তাদের পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়েরা রায়ানের অবস্থান, দোলানোর অভ্যাস এবং চাপের মুখে প্রতিক্রিয়ার সময় নিয়ে খুঁটিয়ে পড়াশোনা করুক। এই সংক্ষিপ্ত বৈঠক খেলোয়াড়দের তাৎক্ষণিক মানসিক স্বচ্ছতা দেয়।
এই কৌশলগত ভিডিও বিশ্লেষণ অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়, যখন অস্ট্রেলিয়া ১১৯ মিনিটে প্যাট্রিক বিচকে তুলে নিয়ে দেরিতে গোলরক্ষক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। মিসরের দল ল্যাপটপেই রায়ানের কৌশলগত প্রবণতা বুঝে নেওয়ার পর, অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক একটিও পেনাল্টি রুখতে পারেননি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পেনাল্টি-মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ গেয়ার জর্ডেট ব্যাখ্যা করেন, রেফারির বাঁশি বাজার পরপরই এমবাপ্পের দ্রুত ও দ্বিধাহীন এক্সিকিউশন প্রমাণ করে, আত্মবিশ্বাস ও দ্বিধাহীনতাই কোনো একক নিখুঁত রুটিনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এখন মিসরকে তাদের ল্যাপটপ-নির্ভর নিখুঁত পরিকল্পনা কাজে লাগাতে হবে শেষ ষোলোর বিশাল লড়াইয়ে, প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।




