চোখ বেঁধে অনুশীলন করানো ‘যাযাবর’ বালদিনি এখন ইতালির কোচ

দুই ম্যাচের জন্য ইতালির কোচ হয়েছেন বালদিনি। ছবি: সংগৃহীত
৪২ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে ক্লাব বদলেছেন ২১ বার। কোচ হিসেবে তাকে ‘যাযাবর' বলাই যায়! কখনোই পেশাদার ফুটবল না খেলা সেই সিলভিও বালদিনিই এবার হাল ধরেছেন ইতালি জাতীয় দলের। জেনারো গাত্তুসোর পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দুই ম্যাচ ইতালির দায়িত্বে থাকবেন তিনি।
২৬ বছর বয়সে কোচিংয়ে এসেছেন বালদিনি। এই বয়সে অনেক ফুটবলার তাদের ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু করে, অথচ তখন কোচ হিসেবে হাতেখড়ি বালদিনির। ১৯৮৪ সালে ইতালির ৮ম বিভাগের দল বাগনোনের দায়িত্ব নেন তিনি। প্রথম মৌসুমেই কোচ হিসেবে চমক দেখান বালদিনি, দলকে নিয়ে যান ৭ম বিভাগে।
সেই শুরু। এরপর পেরিয়ে গেছে ৪২ বছর। তিন যুগেরও বেশি দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে ক্লাব বদলেছেন ২১ বার। সবশেষ গত বছর ক্লাব ফুটবল ছেড়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইতালি অনূর্ধ্ব-২১ দলের।
অনূর্ধ্ব-২১ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর বালদিনি মিডিয়ার নজরে আসেন অদ্ভুত এক কারণে। দলের অনুশীলনের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, এক চোখে পট্টি বেঁধেই অনুশীলন করছেন দলের সদস্যরা।
এক চোখে পট্টি বেঁধে অনুশীলন করান বালদিনি। ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু কেন এমন চোখ বেঁধে অনুশীলন? বালদিনি জানিয়েছিলেন, ফুটবলারদের দৃঢ়তা, মনোযোগ, দুর্বল দৃষ্টিশক্তির চোখে আরও বেশি সচেতনতা বাড়াতেই এমনটা করেন তিনি। অনুশীলনের সময় দুই চোখেই পর্যায়ক্রমে থাকে এমন বাঁধন।
অদ্ভুত এই অনুশীলনের কারিগরই এখন আজ্জুরিদের কোচ। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট পায়নি ইতালি। দলের এই ব্যর্থতায় পদ ছেড়েছিলেন গাত্তুসো। ইতালির দায়িত্ব কার কাঁধে আসবে, সে নিয়েই চলছিল আলোচনা।
এসব গুঞ্জনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ৬৭ বছর বয়সি বালদিনি। জুনে হতে যাওয়া লুক্সেমবার্গ ও গ্রিসের বিপক্ষে দুই প্রীতি ম্যাচের জন্য ডাগআউটে থাকবেন তিনি।
আগামী ২২ জুন নির্বাচিত হবেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নতুন প্রেসিডেন্ট। তারপরই স্থায়ী কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রীতি ম্যাচে ভালো কিছু করলে বালদিনি থেকে যেতে পারেন প্রধান কোচের দায়িত্বেও।
















