ফুটবলাররা রোবট নয়

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ। সেই প্রভাব সাফে পড়ার ভয়ে আছেন অনেকে। ভুটান কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পেলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কা বাংলাদেশের।
তার ওপর ভুটানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হামজা চৌধুরীকে পাওয়া যাবে না। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের শক্তি কিছুটা কমবে।
হামজাকে ছাড়া ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিততে পারবে কি না— এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে ডুলি জানিয়েছেন, ভুটানকে হারানোর সামর্থ্য তার দলের আছে এবং নিজের খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে তার। তবে একই সঙ্গে বাস্তবতাটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। খেলোয়াড়রা যন্ত্রের মতো ভুলহীনভাবে খেলতে পারবে না।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থমাস ডুলির একটি বক্তব্য ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেই খবরে বলা হয়, ফুটবলারদের ওপর আস্থা নেই ডুলির। কিন্তু ডুলি তা অস্বীকার করেছেন, যা বোঝাতে চেয়েছেন তা পরিষ্কার করে কোচ বলেছেন, ‘যে প্রশ্নটি করা হয়েছিল, তা ছিল হামজাকে ছাড়া কি আমরা ভুটানের বিপক্ষে জিততে পারব? আপনারা কী মনে করেন? আমাদের তো পরবর্তী পর্বে যেতে হলে ভুটানকে হারাতেই হবে। আমরা কি তাদের হারাতে পারব? অবশ্যই পারব এবং আমি আমার খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখি। তবে বাস্তবতা হলো— তারা কেউ রোবট নয় যে, প্রোগ্রাম সেট করে দিলাম আর খেলে ফেলল। তাদের ওপরও চাপ বা মানসিক ধকল থাকে। ম্যাচের মধ্যে চাপে পড়ে যদি তারা ভুল করে, বল বেশি দূরে ড্রপ করে আর প্রতিপক্ষ গোল দিয়ে দেয়— তাতে কি আমার দোষ? এটাই আমি বলছিলাম।’
আমাদের তো পরবর্তী পর্বে যেতে হলে ভুটানকে হারাতেই হবে। আমি আমার খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখি। তবে বাস্তবতা হলো— তারা কেউ রোবট নয় যে, প্রোগ্রাম সেট করে দিলাম আর খেলে ফেলল -থমাস ডুলি, কোচ, বাংলাদেশ দল
ডুলির মতে, চাপের মধ্যে খেলোয়াড়দের ভুল হতেই পারে। তাই ভুলের ভয় দেখিয়ে নয়, বরং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেই মাঠে নামাতে চান তিনি। তার চাওয়া, খেলোয়াড়রা যেন সতীর্থের অবস্থান বুঝে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেন।
দলের ভেতরে ইতিবাচক পরিবেশ ধরে রাখার ওপরও জোর দিচ্ছেন ডুলি। নেতিবাচক আলোচনা এড়িয়ে ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনাতেই মনোযোগ দিতে খেলোয়াড় ও স্টাফদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করে বলেই ডুলির মত। এই কোচ চাইছেন, সাফল্যের জন্য সবাইকে একসঙ্গে ইতিবাচক পরিবেশে কাজ করা।
হামজা থাকছেন না, তাই ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে চাপ থাকবে। কিন্তু ভয় সামনে রেখে নয়, নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখেই সাফের লড়াইয়ে নামতে চান ডুলি। তার বার্তা পরিষ্কার— ভুল হতে পারে, চাপ থাকবে, কিন্তু ফুটবলাররা রোবট নন; তাদের বিশ্বাস ও ইতিবাচক পরিবেশ দিতে পারলেই সেরাটা বের করে আনা সম্ভব।



