ইনফান্তিনোকে সরাতে নতুন লড়াই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা থেকে ক্ষোভের মুখে সরে এসেছে ফিফা। এর পর থেকেই চেয়ার ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। প্রশ্ন হচ্ছে, ২১১টি সদস্য দেশের সবাইকে ২ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ইনফান্তিনোর স্বপ্নের প্রজেক্ট মুখ থুবড়ে পড়ল কেন?
ফিফা ২৫ পৃষ্ঠার সেই প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে প্রতিটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে। সেখানে স্পেনের বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ছবি ব্যবহার করে যুক্তি তুলে ধরা হয় বিতর্কিত পরিকল্পনাটির পক্ষে। সেখানে মার্কিন ফুটবলের মতো আয় করার একটি বড় চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।
এই অবাস্তব প্রস্তাবটি তাই মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোপুরি ভেঙে যায়।
ফিফা এই পরিকল্পনা বাতিলের পর গতকাল ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, ফিফা কাউন্সিলের চরম বিদ্রোহের মুখে এখন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কাউন্সিল সদস্যরা একটি জরুরি সাধারণ সভা ডেকে তার নেতৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে চাচ্ছেন।
ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর থেকেই কাউন্সিল সদস্যরা একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। ফিফার প্রধান নীতিনির্ধারণী এই কাউন্সিলে ছয়টি কনফেডারেশনের ২৮ জন প্রতিনিধি, আটজন সহসভাপতি এবং সভাপতি ইনফান্তিনো নিজেসহ সদস্য ৩৭ জন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ১৯ জন সদস্য প্রস্তাব দিলে একটি জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করা সম্ভব। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বালোগুনের লাল কার্ডকাণ্ডেই বিদ্রোহী সদস্যদের সংখ্যা ১০ জনে পৌঁছে গিয়েছিল।
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এবং দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল এখনো ইনফান্তিনোর পক্ষে। এ ছাড়া কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও একটি বিবৃতি দিয়ে ইনফান্তিনোকে সভাপতি পদে বহাল রাখার সমর্থনে মত দিয়েছে। কাউন্সিলের ৩৭ সদস্যের মধ্যে ১৪ জন ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার। তাই ইনফান্তিনোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হলে এশিয়ার সমর্থন অপরিহার্য। এর মধ্যে কাতারের বিবৃতি অস্বস্তিতেই ফেলবে বিদ্রোহীদের। কাতারের অবস্থানে পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির সভাপতি পদে লড়াই করার সম্ভাবনাও বাতিল হয়ে গেছে।
ইনফান্তিনোকে সরানোর আরেকটি উপায় হতে পারে ফিফার একটি জরুরি কংগ্রেস আহ্বান করে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট দেওয়া। ৪৩টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন আবেদন জমা দিলেই এ ধরনের ভোট আহ্বান করা সম্ভব। সেখানে শুধু উয়েফারই সদস্য দেশ ৫৫টি। তাই দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘উয়েফা আলটিমেটাম দিয়েছে ইনফান্তিনোকে। তাদের দাবি, হয় পদত্যাগ করুন, নয়তো জরুরি অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হন।’
ইউরোপের পেশাদার ফুটবল লিগগুলোর সংগঠনের প্রধান ক্লদিয়াস শেফারও দাবি করেছেন, এমন বিতর্কিত উদ্যোগের পর ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর অবস্থান আর টেকসই নয়। তাই ইনফান্তিনোর সরে দাঁড়ানো উচিত। ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনে ইনফান্তিনোর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল ৪১টি দেশের সংগঠন কনকাকাফ। তারাও ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে ‘পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার’ আহ্বান জানিয়েছে। তাকে সরাতে প্রয়োজন ১০৬ ভোট।
ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে উয়েফার হাতে ৫৫ ভোট। আফ্রিকার ৫৪, এশিয়ার ৪৬, কনকাকাফের ৩৫, ওশেনিয়ার ১১ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবলের ১০ ভোট রয়েছে। আফ্রিকা, কনমেবল ও ওশেনিয়া এখনো ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার প্রকাশ্য সমালোচনা করেনি। তাই উয়েফা ও তার বিরোধীদের জন্য ১০৬ ভোট জোগাড় করা সহজ নয়। সেই ভোটের আগে ইনফান্তিনো কি সরে দাঁড়াবেন? নাকি করবেন নতুন লড়াই।




