নতুন হেয়ারকাটে ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন হলান্ড

ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড মানেই দীর্ঘ সোনালী চুলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টিকারী এক ফুটবলার। প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরুর ঠিক আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে রীতিমতো ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তুলেছেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। ২০২১ সালের পর এই প্রথম ভাইকিং সদৃশ দীর্ঘ চুল ছাঁটাই করে একেবারে নতুন লুকে হাজির হয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে ভক্তদের।
গত পাঁচ বছর ধরে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টার সিটিতে নিজের মেটরিক রাইজের সময়টায় ওই পনিটেল বা খোপা করা লম্বা চুলই ছিল তার ট্রেডমার্ক বা পরিচিতি। তবে এবার সেই লুকে ইতি টেনেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ইএসপিএন ব্রাজিলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হলান্ড বলেছিলেন, ‘এটি অনেক সহজ। আমার মনে হয়েছিল পরিবর্তনের সময় এসেছে। বিষয়টি আমার ভালো লাগছে। অবশ্যই আমার লম্বা চুলগুলোর কথা মনে পড়বে, তবে একটা পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল এবং এখন পর্যন্ত আমি এটি উপভোগ করছি। আশা করি চুলগুলো আবার বড় হবে।’ হলান্ডের ইউটিউব চ্যানেলের ৭ মিনিটের এক ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন হেয়ারকাট নিয়ে জিদান ইব্রাহিমোভিচ, জ্যাক গ্রিলিশ, পেপ গার্দিওলা এবং নোয়েল গ্যালাঘারের মতো তারকাদের ফেসটাইম কল করে তাদের মতামত নিচ্ছেন। ইব্রাহিমোভিচ রসিকতা করে তাকে প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কী ফালতু কাজ করেছো! কোনো বাজি হেরেছিলে নাকি?’ অন্যদিকে, তার সতীর্থ গ্রিলিশ তো বলেই বসেন যে তাকে এখন হুবহু ১০ বছরের কোনো শিশুর মতো দেখাচ্ছে!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আকস্মিক রূপান্তর নিয়ে নানা আলোচনা চললেও, মাঠে এর বিন্দুমাত্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। নতুন এই হেয়ারকাট নিয়ে মাঠে নামার পর যেন গোলের ধার আরও বেড়েছে হলান্ডের। প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল না পেলেও পরবর্তী তিন ম্যাচে তিনি এরই মধ্যে ৫টি গোল করে ফেলেছেন, যার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পোর্তোর বিপক্ষে করা জোড়া গোলও রয়েছে। চলতি বছরের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপেও নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পেছনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হলান্ড। ব্রাজিল বধের ম্যাচে জোড়া গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে ৭ গোল করেছিলেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নতুন ফলোয়ার যোগ হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেভিড বেকহামের মতো নিজের ইমেজ ও ব্র্যান্ডকে টিকিয়ে রাখতে এই ধরনের আকস্মিক লুক পরিবর্তন বেশ কার্যকারী। মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের সুবাদে হলান্ড এখন বিশ্ব ফুটবলের ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছেন।






