ম্যারাডোনার সাবেক সহকারীর বিরুদ্ধে কোচিং লাইসেন্স কেলেঙ্কারির অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে কোচিং লাইসেন্স নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সাবেক সহকারী আলেহান্দ্রো মানকুসোর বিরুদ্ধে ভুয়া বা অনিয়মের মাধ্যমে কোচিং লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন পরিচিত সাবেক ফুটবলারের নামও এসেছে যারা বৈধ প্রক্রিয়া এড়িয়ে লাইসেন্স পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ইউওএলের এক প্রতিবেদনে ১০ দিনের মধ্যে কোচিং লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার একটি কথিত চক্রের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে থিয়াগো সিলভা ও ফেলিপে মেলোসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে যারা ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাইসেন্স পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক কোর্স না করেই সনদ পেতে আগ্রহীদের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলারের সমান) নেওয়া হতো।
ইউওএলের হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে মানকুসোকে সাবেক ফুটবলারদের জন্য দ্রুত লাইসেন্স পাওয়ার একটি ব্যবস্থার কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে এমন একটি ব্যবস্থা করেছি যাতে যারা তারকা খেলোয়াড় ছিলেন, তারা অনলাইনে এই কোর্স করার বিকল্প একটি পথ পান। কাজ শেষ। এরা সারাজীবন ফুটবল খেলেছে তাদের কি সত্যিই তিন বছরের অনলাইন কোর্স করতে হবে?’
তবে নথি বা লাইসেন্স সরাসরি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মানকুসো। তার দাবি, ব্রাজিল থেকে অনেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তিনি শুধু তাদের ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘আমি ফেডারেশনে নেই, ফেডারেশনের অংশও নই। তারা যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে কীভাবে এগোতে হবে শুধু সে বিষয়ে সহযোগিতা করি।’
এদিকে বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশন (এটিএফএ)। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক সালভাদর পাশিনি জানিয়েছেন, মানকুসো সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নন। তার কোনো পদ বা কর্তৃত্ব নেই এবং এটিএফএর সঙ্গে তার কোনো চুক্তিও নেই। ফলে এটিএফএর নাম ব্যবহার করে তার করা যেকোনো প্রস্তাব, অর্থ গ্রহণ বা নথি দেওয়ার ঘটনা সংস্থাটির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
লাইসেন্সগুলোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি সনদের ছবি সামনে এসেছে যেখানে সাবেক এটিএফএ পরিচালক ভিক্টর কোক্কোর স্বাক্ষর রয়েছে। তবে কোক্কো ২০২০ সালেই তার পদ থেকে সরে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় অভিযোগের আওতায় থাকা কোচদের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের তদন্তের মুখেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কথিত জাল নথির এই চক্র নিয়ে তদন্ত আরও বিস্তৃত করতে পারে।



