জামালের চোটে শঙ্কা নাকি স্বস্তি

থমাস ডুলির ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে আসছে না তেমন সুখবর। ফিটনেস প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাড়ছে চোট। এর মধ্যে চোট পেয়েছেন জামাল ভূঁইয়া, ফয়সাল ও বিশ্বনাথ ঘোষ। ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ছিটকে গেছেন চার সপ্তাহের জন্য, তাই আসিয়ান কাপ খেলা হচ্ছে না তার।
তবে জামালের ব্যাপারটি এখনো বলা যাচ্ছে না। একসময়ের প্রত্যাশার প্রতীক এ ডেনমার্কপ্রবাসী ফুটবলার আজ ক্ষয়িষ্ণু দীপশিখা। আলো দেওয়ার চেয়ে ধোঁয়াই ছড়াচ্ছে বেশি। কয়েক বছর আগে থেকেই ফিকে আসছে তার পারফরম্যান্স। ৩৬ বছরের জামালের পক্ষে রোজ দুবেলা অনুশীলনের চাপ সহ্য করা যেন একরকম অসম্ভব লড়াই। ক্যারিয়ারের গোধূলিবেলায় চোটের সঙ্গে তার সংগ্রামই স্পষ্ট করে দেয়, বয়সের নির্মম সত্য এড়ানো কঠিন। আগের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা তাকে বেশিরভাগ সময় রাখতেন না নিয়মিত একাদশে। কারণ, ৩০-৪০ মিনিটের বেশি তার পা সচল রাখা দুষ্কর। সেটা ভালোভাবেই বুঝেছিলেন স্প্যানিশ কোচ। তিনি বিদায় নেওয়ার পর তাই বেশ বিষোদ্গার করেছিলেন এ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
অথচ ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৯৩ ম্যাচ খেলে তার গোল মাত্র একটি। নেই কোনো স্মরণীয় অর্জন। মাঠের খেলার চেয়ে তার মুখের বুলি ও স্মার্ট সামাজিক উপস্থাপনাই হয়ে উঠেছে বড় সম্পদ। এই একমাত্র প্রবাসী ফুটবলারই এ দেশের ফুটবলের দুর্বল পরিবেশকে ‘এক্সপ্লয়েট’ করতে পেরেছেন নিখুঁতভাবে। যতটা না মাঠে খেলতে পারেন, তার চেয়ে বেশি রপ্ত করেছেন লাল-সবুজের জার্সিকে ভাঙিয়ে খাওয়ার অদ্ভুত কলাকৌশল। এ জার্সিটি তার কাছে বিজ্ঞাপনী ট্রফির মতো, যা গায়ে থাকলে ব্যবসা টিকে থাকে।
দেশি ফুটবলাররা খেলার মধ্যে না থাকায় তাদের ফিটনেস ফেরাতে সময় লেগেছে কোচের। এর মধ্যে বাংলাদেশের আমেরিকান কোচের নতুন দুশ্চিন্তা সেন্টার ফরোয়ার্ড নিয়ে, ‘দলে কোনো ভালো নাম্বার নাইন নেই। একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে, ঘরোয়া লিগে নাম্বার নাইন কেন তৈরি হচ্ছে না। প্রতিটি ক্লাব দলে এই পজিশনে খেলে বিদেশিরা। ফলে কোনো দেশি সেন্টার ফরোয়ার্ড তৈরি হচ্ছে না।’
বাংলাদেশের ফুটবলে এ নিয়ে আগেও কথা হয়েছে, তবে কোনো সমাধান দিতে পারেনি কেউ। আগের কোচরাও নানা জনকে, বিশেষ করে উইঙ্গারদের সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলিয়েও পাননি সাফল্য। রাকিব-ফাহিমদের পজিশন বদলালে বিরূপ প্রভাব পড়ে তাদের পারফরম্যান্সে। এ সমস্যার সমাধান করা যায়নি বলেই বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের হারও অনেক কম। অ্যাটাকিং ফুটবলের ছবিও ফুটে ওঠে না স্কোরলাইনে। সাম্প্রতিককালে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী ও সেন্টারব্যাক তপু বর্মণ গোল করেন বলেই মান বাঁচে লাল-সবুজের।
কোচের আসিয়ান কাপ পরিকল্পনায় এ পজিশনে মজিবুর রহমান ও শাহরিয়ার ইমন এগিয়ে আছেন। থমাস ডুলি বলেছেন, ‘আমাদের কোনো একজনকে খুঁজে বের করতে হবে। এমন একজনকে খুঁজে বের করতে হবে, যে ওই পজিশনে আমাদের সাহায্য করতে পারে। কে হতে পারে, সেটা আমরা নিশ্চিত নই। আমার ধারণা হলো— রাকিব, মজিবর বা ইমনের মধ্যে একজন।’
তার হাতে সময়ও খুব বেশি নেই। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের অভিষেক হবে আসিয়ান কাপে, এরপর সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার ম্যাচ। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়ার আগেই হাতে মাত্র দুদিন। এর মধ্যে শুটিং, সেটপিসসহ অন্যান্য ট্রেনিংয়ে একাদশের অঙ্ক মিলিয়ে নিতে হবে ডুলিকে।



