ফ্লিকের কৌশলেই বার্সেলোনার গোল মিছিল

সংগৃহীত ছবি
শেষ কবে বার্সেলোনাকে
এমন বিধ্বংসী রূপে দেখা গিয়েছিলো মনে আছে কি? বিধ্বংসী বলার কারণটা হয়ত অনেকের কাছেই
জানা। এই মৌসুমে সাত ম্যাচ খেলে সাতটিতেই জয় এবং গোল সংখ্যা ৩৩! অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে
গড়ে প্রায় ৫টি করে গোল। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে হঠাৎ কি এমন হলো যে কাতালান ক্লাবটির
সামনে কোনো দলই পাত্তা পাচ্ছে না।
কিন্তু এটি মোটেই হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো বিষয় নয়। এই পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে খেলোয়াড়দের
দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ভালো করার উদ্যম, একইসঙ্গে কোচ হানসি ফ্লিকের দূরদর্শী পরিকল্পনা।
এ সবকিছুর সমন্বয়ে বার্সেলোনা হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য।
ফ্লিকের কৌশলে বার্সার দাপট
হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আগ্রাসী প্রেসিং। প্রতিপক্ষের পায়ে বল গেলেই একসঙ্গে চাপ তৈরি করেন খেলোয়াড়েরা। শুধু আক্রমণভাগ নয়, মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগ এতে অংশ নেয়। ফলে প্রতিপক্ষ স্বাভাবিকভাবে বল বের করে আনতে পারে না। বল হারানোর পরও বার্সা দ্রুত তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে। এই গেগেনপ্রেসিং থেকেই তৈরি হয় বেশ কিছু গোলের সুযোগ।
ফ্লিকের দলের ব্যাকলাইন থাকে অনেক ওপরে, রক্ষণভাগও অংশ নেয় আক্রমণে। মাঝমাঠে জায়গা সংকুচিত হওয়ায় প্রতিপক্ষের পাস দেওয়ার সুযোগ কমে যায়। বার্সা বল ফিরে পেলেই দ্রুত সামনে এগিয়ে যায়। ছোট পাস, দ্রুত দিক পরিবর্তন এবং আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ক্রমাগত জায়গা বদল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে অস্থির করে তোলে। দুই উইং ব্যবহার করে তারা মাঠকে বড় করে খেলে। আবার মাঝখানে খেলোয়াড় বাড়িয়ে আক্রমণও সাজায়। এই উচ্চ গতি ও সমন্বিত প্রেসিংই চলতি মৌসুমে বার্সার আক্রমণাত্মক ফুটবলের মূল ভিত্তি। তবে হাই লাইনের কারণে পেছনে জায়গা খালি হওয়ার ঝুঁকি থাকায় পুরো দলকে একই ছন্দে থাকতে হয়।
রাফিনিয়ার নতুন রূপ
বার্সেলোনার দুর্দান্ত শুরুর পেছনে বড় অবদান রাখছেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলের জার্সিতে অনেক সময় নিজের সেরাটা দিতে না পারলেও ক্লাব ফুটবলে ফ্লিকের অধীনে অন্য রূপে দেখা যাচ্ছে তাকে। এই মৌসুমের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই ফ্লিক তাকে উইঙ্গার হিসেবে না খেলিয়ে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলাচ্ছেন। এতে রাফিনিয়ার গতি, ড্রিবলিং ও গোলের দক্ষতা আরও বেড়ে গেছে।
চলতি মৌসুমের সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন রাফিনিয়া। সঙ্গে আছে
৩টি অ্যাসিস্ট। রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে লা লিগার গোলদাতার তালিকাতেও
উঠে এসেছেন শীর্ষে।
ইয়ামালের গতি ও ড্রিবলিং
রাফিনিয়ার দুর্দান্ত ফর্মের পর বার্সেলোনার আক্রমণে আরেকটি বড় নাম লামিন ইয়ামাল। তরুণ এই ফরোয়ার্ড ডান প্রান্তে থেকে একের পর এক সুযোগ তৈরি করছেন। তার ড্রিবলিং ও গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিয়মিত সমস্যা তৈরি করছে। রাফিনিয়া যেখানে ভেতরে ঢুকে গোলের সুযোগ তৈরি করছেন, ইয়ামাল সেখানে প্রতিপক্ষকে তার দিকে ব্যস্ত রাখছেন। ফলে দুই প্রান্ত থেকে বার্সার আক্রমণে বৈচিত্র্য আসছে।
ইয়ামাল শুধু গোল বা অ্যাসিস্টেই নয়, বল নিয়ে
সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও দুর্দান্ত। ফ্লিকের দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক ফুটবলে তার এই
কৌশল বার্সার আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। চলতি মৌসুমে ইয়ামালের গোল ৮টি ও আসিস্ট
৪টি।
স্কোয়াডের গভীরতা
বার্সেলোনার আরেকটি বড় শক্তি তাদের স্কোয়াডের গভীরতা। গ্রীষ্মের দলবদলে দলে এসেছে রোদ্রি,
জোয়াও ক্যানসেলো, আন্তোনি গর্ডন, করিম আদেয়েমিসহ একাধিক খেলোয়াড়। ফলে ফ্লিকের হাতে
এখন বিভিন্ন পজিশনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। দীর্ঘ মৌসুমে চোট, ক্লান্তি বা ফর্মের ওঠানামা
সামলে একই ধরনের গতির ফুটবল ধরে রাখতে এই গভীরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।





