শীর্ষেই থাকল বসুন্ধরা কিংস

আরামবাগকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ছবি: বাফুফে
বাংলাদেশ ফুটবল লিগে এককভাবে শীর্ষস্থান হারানোর শঙ্কা ছিল বসুন্ধরা কিংসের। ঘরের মাঠে আরামবাগের কাছে বসুন্ধরা হারলে ফর্টিস এফসির তাদের ছুঁয়ে ফেলার সুযোগ ছিল। তবে ফর্টিসকে সে সুযোগ না দিয়ে বসুন্ধরা ম্যাচ জিতেছে ২-১ গোলে।
বিরতির আগে বসুন্ধরা চাপ প্রয়োগ করে দুই গোলে এগিয়ে যায়। বিরতির পর বসুন্ধরা তাল-লয় হারালে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টা করে আরামবাগ। গোল করে ব্যবধানও কমিয়েছিল তারা। তবে তাদের ম্যাচে ফিরতে দেননি কিংস গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। একাধিক অসাধারণ সেভ করে দলকে ঠিকই তিন পয়েন্ট এনে দেন অভিজ্ঞ এই কিপার।
ফল
বসুন্ধরা কিংস ২ : ১ আরামবাগ
ফর্টিস এফসি ২ : ০ পুলিশ এফসি
জয় পেয়েছে ফর্টিস এফসিও। গাজীপুরে তারা ২-০ ব্যবধানে হারায় পুলিশ এফসিকে। এই জয়ে গাজীপুরে চার দিন আগে ফেডারেশন কাপে ২-১ গোলে হারের প্রতিশোধ নিয়েছে ফর্টিস। তাদের হয়ে শুরুতে মিঠু চৌধুরী ও শেষ দিকে গোল করেন পিয়াস আহমেদ নোভা।
তাতে ফর্টিস ফিরে পেয়েছে দ্বিতীয় স্থান। মোহামেডানকে হারিয়ে শুক্রবার তাদের টপকে গিয়েছিল আবাহনী। ১২তম রাউন্ড শেষে বসুন্ধরা আট জয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে সবার ওপরে। ফর্টিসের সাত জয়ে সংগ্রহ ২৪ পয়েন্ট। তিনে থাকা আবাহনীর পয়েন্ট ২২।
আগের রাউন্ডে ফর্টিসকে হারিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল বসুন্ধরা। সেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যোগ হয়েছিল আরামবাগের বিপক্ষে তিন দিন আগে ফেডারেশন কাপে ৫-০ গোলে জয়ের অনুপ্রেরণা। দুইয়ে মিলে কিংস অ্যারেনায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেছে তারা। ফলস্বরূপ দুই গোলে এগিয়ে যাওয়া।
২৪ মিনিটে ইউসুফের কাছ থেকে বল পেয়ে ডানদিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন রাকিব। মার্কারকে সুযোগ না দিয়ে গোলমুখে কাটব্যাক দেন দোরিয়েলতন গোমেজকে। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার নিখুঁত প্লেসিংয়ে বল পৌঁছে দেন দূরের পোস্টে।
৪ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করেন ইমানুয়েল সানডে। মাঝ মাঠ থেকে রাকিবের পাস ধরে ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত ক্রস দেন দোরিয়েলতন। তাতে আনমার্কড সানডের হেড এক ড্রপে জালে জড়ায়।
বিরতির আগ মুহূর্তে কিংসকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন ফাহিম। রাকিবের ক্রস অল্পের জন্য নাগাল পাননি তিনি। বিরতি থেকে ফিরে দোরিয়েলতন ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। ৫৫ মিনিটে ফাহিমের কর্নারে তার হেড পোস্টের ওপর দিয়ে যায়।
পরের মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে আসা লং বল হাত দিয়ে মাটিতে নামান আরামবাগের ঘানার ফরোয়ার্ড কিজিতো। কিংস গোলকিপার জিকোকে পরাস্ত করে বল জালেও পাঠিয়েছিলেন। তার আগেই সহকারী রেফারি পতাকা তুলে হ্যান্ডবলের নির্দেশনা দেন।
তাতেই মাঠে কিছু সময়ের জন্য শুরু হয় উত্তেজনা। রেফারিদের ঘিরে ধরেন আরামবাগের উত্তেজিত খেলোয়াড়রা। টিভি রিপ্লেতে অবশ্য পরিষ্কার দেখা গেছে বলটা হাত দিয়ে নামিয়েছেন কিজিতো।
তবে ব্যবধান কমাতে বেশি সময় নেয়নি আরামবাগ। ৬৩ মিনিটে আবসারের চিপে মিলসের সাইড ভলি কোনাকুনি জালে জড়ায়। ৬৭ মিনিটে আরামবাগকে সমতায় ফিরতে দেননি বসুন্ধরা কিংসের কিপার জিকো। ডান দিক থেকে রকির ক্রসে মিলসের দারুণ হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন তিনি।
২ মিনিট পর ইউসুফের লম্বা থ্রোয়ে বিশ্বনাথের ব্যাক হেড গোলমুখের জটলায় এলে তাতে স্যামুয়েল রাকসামের সাইড ভলি পোস্টে যায়নি সতীর্থ সানডে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয়। একটু এদিক সেদিক হলে গোল হতে পারতো।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধান ধরে রেখে বসুন্ধরা মাঠ ছাড়ে জয়ের স্বস্তি নিয়ে। অঘটন ঘটাতে না পেরে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকতে হচ্ছে আরামবাগকে।
















