এশিয়ান গেমস
মিয়ানমারকে হারাতে পারেনি ঋতুরা

ছবি: বাফুফে
দুই কোরিয়ার কাছে আগের দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তারপরও কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার সুযোগ ছিল। সেক্ষেত্রে প্রথম শর্ত ছিল মিয়নামারকে গ্রুপের শেষ ম্যাচে হারানো। তবে সেই আরাধ্য জয়টা ছুঁতে পারেননি ঋতুপর্ণা চাকমা-মারিয়া মান্দারা। গোলশূণ্য ড্রয়ে শেষ হয়েছে ম্যাচ। তলানীতে থেকে পিটার বাটলারের দলকে বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ান গেমস থেকে।
অথচ এই মিয়ানমারকে হারিয়ে গত বছর এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ওসাকার ইনাই পার্ক স্টেডিয়ামে গোল করার লোকই খুঁজে পাওয়া যায়নি বাংলাদেশের। বাঁ দিক থেকে ঋতুপর্ণা বার কয়েক আক্রমণ গড়লেও, সুগুলোকে গোলে বদলে ফেলার দায়িত্ব কেউই নিতে পারেননি। তাই আরেকবার এশিয়ান গেমস থেকে বাংলাদেশের নারীদের বিদায় নিতে হয়েছে শূণ্য হাতে।
ম্যাচে দুদলই গোলের চেষ্টা করেছে। অস্টম মিনিটে ভালো একটু সুযোগ তৈরি করেছিলেন ঋতুপর্ণা। এই উইঙ্গার বল নিয়ে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে গোলমুখে ভালো ক্রস ফেলেছিলেন। তবে দলের কেউই সেই বলকে গোলে পরিণত করতে পারেননি।
৩৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে ঋতু বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তার শট পোস্ট উঁচিয়ে বাইরে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে ঠিক, তবে ফরোয়ার্ডরা নিভে থাকায় কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি। তাই কোনো গোল না করেই দেশের বিমানে চড়তে হবে বাংলাদেশকে।
এশিয়ান গেমসের বড় মঞ্চে আরেকবার ব্যর্থ হতে হলো বাংলদাদেশকে। যার দায় অনেকটাই বর্তাবে ব্রিটিশ কোচ বাটলারের ওপর। দীর্ঘসময় ধরে এই দল নিয়ে কাজ করার ব্রিটিশ কোচের বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের চরম মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই কোচ তরুণ সুযোগ দিতে গিয়ে অনেক পরীক্ষিত ফুটবলারকে ছিটকে ফেলেছেন। দলের আগের সেই সুরটাই যেন কেটে গেছে তাতে।
প্রথম ম্যাচে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমার মত ফুটবলারদের বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজান এই কোচ। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে সে ম্যাচে বাংলাদেশ হার মানে ১০-০ ব্যবধানে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে অবশ্য সিনিয়রদের হুট করে একাদশে ফেরান কোচ। যাদের গত ছয় মাসে সেভাবে সুযোগই দেননি, সেই রূপনা চাকমা, শিউলি আজিমদের তাদেরও মাঠে নামিয়ে দেন কোচ।



