চট্টগ্রাম
ফুটবলের দুর্গা-তানজিনা আগামীর তারকা !

ছবি: আগামীর সময়
নিজেদের রক্ষণভাগের ঠিক মাথায় বলটি পেল তানজিনা। তার পর বাঁ দিকে একটু সরে এলো। সামনে প্রতিপক্ষের একজনকে ড্রিবলে পরাস্ত করল। এরপর এগোতে থাকল বাঁ দিকের উইং ধরে। মাঝমাঠ পার হতে হতে আরও তিনজনকে আউট সাইড-ইনসাইড ডজে পেছনে ফেলল। পঞ্চম জনকে কাটিয়ে ডি-বক্সের মাথা থেকে বার লক্ষ্য করে তানজিনার শট। কোনো রকমে রাউজানের গোলরক্ষক যমুনা ঠেকিয়ে দেয়।
চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আজ শনিবার সকালে তানজিনা নামের এই কিশোরীর ফুটবল নৈপুণ্য নজর কেড়েছে। তার এমন ফুটবল স্কিল দেখে ম্যারাডোনা, মেসির মতো বড় ফুটবলারদের চার-পাঁচজনকে কাটিয়ে গোল করার দৃশ্যগুলোর কথা মনে আসতে পারে। ইসরাত নিসা তানজিনা নতুন কুঁড়ি ফুটবলে পটিয়া উপজেলার হয়ে খেলেছে। তার দল পটিয়া উপজেলা আজ রাউজানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
ফাইনালে দুটি গোল তার পা থেকে এসেছে। বাকি দুটি করেছে অধিনায়ক দুর্গা দাশ। পাঁচ গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা দুর্গা। আর তানজিনা সেরা খেলোয়াড়। দুজনই পটিয়ার চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে আসা দুই কিশোরী এখন পুরো টুর্নামেন্টের তারকা।
তানজিনারা চার ভাইবোন। সে তৃতীয়। বাবা একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরি। টানাপড়েনের সংসার। তাতে ফুটবল অনেকটা বিলাসীতার মতো। কারণ ফুটবলের জন্য বুটসহ নানা সরঞ্জাম দরকার হয়। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও প্রয়োজন। তানজিনা জানায়, ঘরে আর কেউ ফুটবল খেলে না। সে বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল দেখে অনুপ্রাণিত। ভবিষ্যতে জাতীয় দলে দেখতে চায় নিজেকে।
চার ভাইবোনের সংসারে দুর্গাও তৃতীয় সন্তান। বাবা দুলাল দাশ ভাগ্যান্বেষণে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। মধ্যবিত্ত সংসারের মেয়ে দুর্গা স্বপ্ন দেখে বড় ফুটবলার হওয়ার। সে বলে, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ফুটবল খেলছি। স্ট্রাইকার পজিশনে খেলি।’
স্কুলটির দুই শিক্ষক আরাফাত কাদের ও মো. রিয়াদের তথ্য মতে, ওই স্কুলের চারজন উপজেলা ফুটবল দলে খেলছে। স্কুলে মেয়েদের ফুটবল হয়। সেখান থেকেই তাদের বাছাই করা হয়। দুর্গা ও তানজিনা সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড়।
দুজন ভালো বন্ধুও। মাঠের খেলায়ও তার প্রমাণ মেলে দারুণ বোঝাপড়ায়। দুর্গার দুটি গোলই হয়েছে তানজিনার ক্রস থেকে। ফাইনালে পটিয়ার প্রথম গোল হওয়ার পর উল্লাস করতে করতে মাঝমাঠে আসে দুর্গা। হাঁটু গেড়ে এক সতীর্থ বসে দুর্গার ডান পা-টা কোলে নিল। এরপর পায়ের বুট মুছে দিল। সেলিব্রেশনেও তারা আগামীর তারকা !




