চ্যাম্পিয়নস লিগ
ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে উড়ে গেল সিটি

প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রথমবার ঘরের মাঠ ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। খেলা দেখতে এদিন গ্যালারিতে ছিলেন সিটির সাবেক সফল কোচ পেপ গার্দিওলা। সেইসঙ্গে ছিল দর্শকদের চরম বিক্ষোভ আর গর্জন। কিন্তু সব কিছুই যেন বিপক্ষে গেল সিটির। ইউরোপসেরা পিএসজির কাছে তারা হেরে গেল ৪-২ গোলের ব্যবধানে।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই সিটিকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলে পিএসজি। ১৩তম মিনিটে ফ্যাবিয়ান রুইজের পাস থেকে বাঁ পায়ের নিচু শটে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন দেজিরে দুয়ে। এর দুই মিনিট পরই তার নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ হেডে ব্যবধান ২-০ করেন উসমান দেম্বেলে। ৩২তম মিনিটে ম্যাগনেস আকলিউশ ও ওয়ারেন জাইরে-এমেরির চমৎকার বোঝাপড়ার সুযোগ নিয়ে সিটির জালে তৃতীয় গোলটি জড়ান ভিতিনহা। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ম্যানচেস্টার সিটি।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে একযোগে তিনটি পরিবর্তন আনেন সিটি কোচ মারেস্কা। রুবেন দিয়াস, রায়ান চেরকি এবং জেরেমি ডোকুকে তুলে মাঠে নামানো হয় ম্যাথিউস নুনেস, আইয়ুব বুয়াদি ও ইলিম্যান এনদিয়ায়েকে। এই পরিবর্তনের পর আক্রমণের ধার বাড়ায় সিটি। ৫৩তম মিনিটে এনদিয়ায়ের পাস থেকে ব্যবধান কমান তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড (১-৩)।
তবে সিটির প্রত্যাবর্তনের আশায় জল ঢেলে দেন আকলিউশ। ৬২তম মিনিটে তার শট সিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার গায়ে লেগে জালে প্রবেশ করলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পিএসজি। ৭৫তম মিনিটে বুয়াদির অ্যাসিস্টে হালান্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। ম্যাচের শেষভাগে পেনাল্টি পেয়েও ব্যর্থ হন ফেরান তরেস। অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারানোর স্মৃতি টাটকা থাকতেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে এমন বাজে হার সিটি সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা। ম্যাচ শেষে সিটি কোচ এনজো মারেস্কা স্বীকার করেন যে প্রথমার্ধের চরম ভুলগুলোই তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। ঘরের মাঠে ৪-২ গোলের এই হারের পর চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণ আরও কঠিন করে তুলল ম্যানচেস্টার সিটি।





