২০৩০ বিশ্বকাপে মেসি-থিয়াগোর একটি কাল্পনিক ছবি!

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসিকে কতদিন দেখা যাবে, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচনার বিষয়। তবে এরই মধ্যে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা বুনতে শুরু করেছেন নতুন একটি স্বপ্ন— ২০৩০ বিশ্বকাপে একসঙ্গে মাঠ মাতাবে মেসি ও তার বড় ছেলে থিয়াগো!
স্বপ্নটা কি খুবই অযৌক্তিক? এর জন্য বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন¬–– স্পেনে জন্ম নেওয়া থিয়াগো কি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে চাইবেন?সে কি জাতীয় দলে খেলার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে? মেসি কি আরও চার বছর খেলা চালিয়ে যাবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর পেলেই জানা যাবে ভক্তদের স্বপ্নটা বাস্তবে রূপ নেবে কিনা।
প্রথম প্রশ্নটার জবাব অবশ্য থিয়াগো নিজেই দিয়েছেন। বার্সেলোনায় জন্ম হলেও এই তরুণ ফুটবলার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে সে ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার জার্সিতেই মাঠে নামতে চায়। বাবার মতো তারও স্বপ্ন আলবিসেলেস্তেদের প্রতিনিধিত্ব করা।
দ্বিতীয় প্রশ্নটার জবাব থিয়াগোকে মাঠেই দিতে হবে। তিন বারের বিশ্বজয়ীদের জার্সি গায়ে দেওয়া যতটা গৌরবের ঠিক ততটাই কঠিন। অবশ্য ১৩ বছর বয়সী থিয়গো নিজেকে একটু একটু করে গড়ছে নিজেকে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলছে ইন্টার মায়ামির একাডেমিতে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই তার গোল বা অ্যাসিস্টের নানা পরিসংখ্যান হয়তো আপনার চোখে পড়বে। সেগুলো কিছু ঠিক, কিছু গুজব। তবে বয়সভিত্তিক ফুটবলে সে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নিজের প্রতিভাকে মেলে ধরছে। চমৎকার খেলছে এবং প্রশংসাও কুড়াচ্ছে। ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-১২ ও অনূর্ধ্ব-১৩ দলে নিজের ফুটবল দক্ষতার বেশ কিছু ঝলক দেখিয়েছে। এক টুর্নামেন্টে মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৩ দলের হয়ে তার করা একটি দৃষ্টিনন্দন গোল দারুণ সাড়া ফেলেছিল নেট দুনিয়ায়। মেসির ছেলে হওয়ার কারণে সংবাদমাধ্যমের বাড়তি চাপ থাকলেও থিয়াগো স্বাভাবিক খেলাটাই উপভোগ করে যাচ্ছে।
আগামী কয়েক বছরে যদি থিয়াগোর উন্নতি একই ধারায় চলতে থাকে এবং দ্রুত পেশাদার ফুটবলে জায়গা করে নিতে পারে তাহলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে তার ডাক পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার স্বপ্ন বাস্তবেও রূপ নিতে পারে।
কিন্তু সর্বশেষ প্রশ্নটির জবাব স্বয়ং মেসির হাতে। পরের বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির বয়স হবে ৪৩। ততদিন খেলা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তবে অবসর নিয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিতও দেননি তিনি। নামটা যেহেতু লিওনেল মেসি তাই ভক্তরা আশা রাখতেই পারেন ২০৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতাবেন তিনি।
সব সমীকরণ যদি মিলে যায় তাহলে ফুটবল বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ঘটনার সাক্ষী হবে। পরের বিশ্বকাপে থিয়াগোর বয়স হবে ১৮। এই বয়সেই আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন তার বাবা। দুজনের খেলার ধরণও অনেকটা একই– প্লে-মেকিং। যে থিয়াগোকে মেসি জড়িয়ে ধরে আদর করেন, তাকেই জড়িয়ে ধরে মাঠে তার গোল উদযাপনের ছবিটা কী অসাধারণ হতে পারে!
ছবিটা এখনও কাল্পনিক। শুধুই সম্ভাবনার গল্প। আগামী কয়েক বছরই বলে দেবে থিয়াগো মেসি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে কিনা আর ২০৩০ বিশ্বকাপে ফুটবল বিশ্ব সত্যিই বাবা-ছেলের ঐতিহাসিক জুটি দেখবে কিনা।




