বিশ্বকাপে ব্রাজিল
আনচেলত্তির কৌশলেও আছে ফাঁকফোকর!
- ব্রাজিল এখন খেলছে ৪-২-৪ ফরমেশনে। এতেই মাঝমাঠ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন রোচা, ‘এই ফরমেশনে কিছু ফাঁকফোকর তৈরি হয় যা প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ দেবে এবং তাতে ম্যাচ হারতেও পারি।’

সংগৃহীত ছবি
প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ব্রাজিলের হেক্সা মিশন যেন নতুন করে গতি পেয়েছে। চারদিকে ধন্যি ধন্যি রব উঠছে। কিন্তু এর মধ্যেও খুঁত ধরছেন একজন। তিনি রিকার্দো রোচা, ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। তিনি ফাঁকফোকার দেখছেন কার্লো আনচেলিত্তির কৌশলে।
ব্রাজিল এখন খেলছে ৪-২-৪ ফরমেশনে। এতেই মাঝমাঠ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন রোচা, ‘এই ফরমেশনে কিছু ফাঁকফোকর তৈরি হয় যা প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ দেবে এবং তাতে ম্যাচ হারতেও পারি। আমি চাই, পরিকল্পনাটি সফল হোক। তবে আমি হলে ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলাতাম। কারণ আক্রমণভাগের চারজনের রক্ষণাত্মক বৈশিষ্ট্য নেই। ফলে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।’
১৯৯৪ বিশ্বকাজয়ী ব্রাজিলের এই ডিফেন্ডার চাইছেন মাঝমাঠকে আরো শক্তিশালী দেখতে। সহজেই যেন প্রতিপক্ষ আক্রমণে উঠতে না পারে। তাই বলছেন, ‘এই ফরমেশন আমার পছন্দ নয়, কারণ এতে করে আমরা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। বদলি খেলোয়াড় হিসাবে তিনি (আনচেলত্তি) পাকেতা বা দানিলোকে নামান, এরপর দলে ভারসাম্য ফেরে।’
কৌশলে আস্থা না থাকলেও রিকার্দো রোচা আনচেলত্তির ওপর বিশ্বাস রাখতে চান, ‘তার ওপর আমার আস্থা আছে। একজন ফরোয়ার্ড কমিয়ে মিডফিল্ডার যোগ করলেই মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে থাকে সহজে।’ ফ্লুমিনেন্সে ক্লাবের পরামর্শক রিকার্দো রোচা
ব্রাজিল দলে তিনি নেইমারকেও চান। ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন এই ফরোয়ার্ড। রোচার বিশ্লেষণে এই তারকার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে, ‘তার নেতৃত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজেও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে প্রথম একাদশের খেলোয়াড় হিসাবে গিয়েছিলাম এবং প্রথম ম্যাচেই চোট পাই। নেইমার চোট নিয়ে বিশ্বকাপে গেছে, তাই পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রশ্ন হলো তাকে দলে রাখা হবে কিনা।’
ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ বলছে, নেইমারের জন্য তারা অপেক্ষা করবে প্রথম ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত। অর্থাৎ সেই দিন পর্যন্ত চোট না সারলে নেইমার হয়তো-বা ছিটকে যাবেন স্কোয়াড থেকে।
কিন্ত রোচা চাইছেন নেইমারকে দলে রাখতে। মূল্যায়ন করছেন তার অভিজ্ঞতাকে, ‘আমি হলে নেইমারকে দলে রাখতাম। হয়তো প্রথম ম্যাচ বেঞ্চে থাকবে, তবে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা বেশি। এটি নেইমারের চতুর্থ বিশ্বকাপ, তার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মূল্যবান হবে দলের জন্য।’





