ফিফা সংস্কার
চাপে পড়ে পিছু হটলেন ইনফান্তিনো

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও কার্যপদ্ধতি তৃতীয় পক্ষ দিয়ে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা কাউন্সিলের সদস্য এবং সব জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
চিঠিতে ইনফান্তিনো উল্লেখ করেছেন, এই স্বাধীন পর্যালোচনাটি 'সম্ভাব্য উন্নতির বিষয়ে সুপারিশ করবে'। আগামী মাসে কাউন্সিল বৈঠকের আগে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে একটি আলোচনার প্রস্তাবও দিচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে সভাপতির ভূমিকা এবং প্রধান কৌশলগত উদ্যোগগুলোতে 'স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা জোরদার করার বাস্তবসম্মত উপায়' অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রস্তাব নিয়ে তীব্র চাপের মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারিত্ব বিক্রির এই পরিকল্পনাটি বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিয়েছিল। সমালোচকদের শান্ত করার সুরেই ইনফান্তিনো চিঠিতে লিখেছেন, 'গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি আপনাদের লেখার আগে মনোযোগ দিয়ে সবার কথা শুনেছি।'একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, কনফেডারেশন, সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এফএফই পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, 'এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ফিফার নিয়ন্ত্রণ বা ক্রীড়াসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অধিকার হাতছাড়া করার কোনো বিষয় ছিল না। নিশ্চিতভাবেই না!'
তিনি আরও যোগ করেন, 'ফিফার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এবং কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপনের আগেই প্রস্তাবটি জনসমক্ষে চলে আসে। আমি স্বীকার করছি যে, পূর্ণ প্রেক্ষাপট না থাকায় এটি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল এবং এমন ধারণার জন্ম দিয়েছিল যে সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়ে গেছে। অথচ তা নেওয়া হয়নি।'ইনফান্তিনো দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, 'গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্বাধীনতা এবং ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের কখনো কোনো মূল্য ছিল না। এগুলো বিক্রির জন্য নয় এবং কখনোই বিক্রি করা হবে না।' একই সঙ্গে তিনি ফিফাকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে নিজের সম্পূর্ণ অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইনফান্তিনোর এই চিঠি এমন এক সময়ে এল, যখন ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনগুলো (উয়েফা এবং কনকাকাফ) ফিফার নগদ রিজার্ভ থেকে প্রতিটি সদস্যকে ১ কোটি ডলার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে এফএফই পরিকল্পনা ভেস্তে গেলেও ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগের উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমে যায়নি বলে দাবি করেন ফিফা সভাপতি।আগামী বছরের মার্চে চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচনের লড়বেন ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস-ইতালিয়ান ফুটবল ব্যক্তিত্ব। এর আগে গত মাসে উয়েফা এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন আদালতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। অবশ্য ফিফাও এর জবাবে উয়েফার বিরুদ্ধে ‘নেতিবাচক প্রচারণার’ অভিযোগ তোলে।
আগামী ১৫ অক্টোবর এই সংকটের পর প্রথম ফিফা কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে সমালোচকরা শুধু পদত্যাগই নয়, বরং সভাপতির ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরা (যেমন সর্বোচ্চ এক মেয়াদের সীমা নির্ধারণ), প্রশাসন ও সভাপতির কাজের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা এবং ফিফার ক্যাশ রিজার্ভ পুনর্বণ্টনের মতো বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার দাবি করছেন। এখন দেখার বিষয়, মসনদ টিকিয়ে রাখতে ইনফান্তিনো শেষ পর্যন্ত এই আমূল পরিবর্তনে রাজি হন কি না।






