ফুটবলে পাঁচ বছরে স্পেনের ১৭ ট্রফি

ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে স্পেনের খেলোয়াড়রা। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের জয়জয়কার চলছে। গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের তিন মাসের মধ্যেই নারী ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল স্পেন। পোল্যান্ডের লোধে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছেন স্প্যানিশ মেয়েরা।
গত পাঁচ বছরে অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে শুরু করে সিনিয়র পর্যায় পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ১৭টি বিশ্ব ও ইউরোপীয় ট্রফি জয়ের বিরল কীর্তি গড়ল তারা। আসলে বিশ্ব ফুটবলেই এখন চলছে স্পেনের রাজত্ব। দুই বছর আগে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, ‘লা রোহা’খ্যাত স্পেন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে জিতেছে বিশ্বকাপ। তারা বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা একই সঙ্গে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ২০২৩ সালে সিডনিতে নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা হারিয়েছিল ইংল্যান্ডকে।
শুধু তাই নয়, স্পেনের পুরুষ দল ২০২৩ সালের নেশনস লিগ এবং ২০২৪ সালে জিতেছিল অলিম্পিক সোনা। অন্যদিকে নারী দল ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জিতেছে টানা দুবার নেশনস লিগ। এ নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিলেম বালাগ বলেছেন, ‘এটা একচ্ছত্র আধিপত্য। সবকিছুর এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটেছে। আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত ধারা আছে, যা আমরা সবাই মেনে চলি। সবাই এতে বিশ্বাস রাখে। আর স্পেন কখনো থমকে যায় না। এটা আমাদের জন্য আরও একটি এভারেস্ট জয়। কারণ এর আগে ২০১০ সালে পুরুষ দল ইউরো জেতার দুই বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছিল, এবারও স্পেন একই কীর্তি গড়েছে।’
স্পেনের ট্রফি জয়
নারী ফুটবল (২০২২-২০২৬: মোট ১২টি শিরোপা)
সিনিয়র: ১টি বিশ্বকাপ (২০২৩); ২টি নেশনস লিগ (২০২৪, ২০২৫)।
অনূর্ধ্ব-২০: ২টি বিশ্বকাপ (২০২২, ২০২৬)।
অনূর্ধ্ব-১৯: ৫টি অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫, ২০২৬)।
অনূর্ধ্ব-১৭: ১টি বিশ্বকাপ (২০২২); ১টি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৪)।
পুরুষ ফুটবল (২০২২-২০২৬: মোট ৫টি শিরোপা)
সিনিয়র: ১টি বিশ্বকাপ (২০২৬); ১টি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৪); ১টি নেশনস লিগ (২০২৩)।
অনূর্ধ্ব-২৩: ১টি অলিম্পিক স্বর্ণ (২০২৪)।
অনূর্ধ্ব-১৯: ১টি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৬)।
২০১৫ সালে নারী বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়ার পর স্পেনের নারী দল তাদের তৃতীয় অংশগ্রহণেই (তিন বছর আগে) ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বসেরা হয়েছিল। এরপর টানা দুবার জেতে (২০২৪ ও ২০২৫ সালে) নেশনস লিগ।
সাবেক খেলোয়াড় মারিয়া গারিদো এমন সাফল্য নিয়ে বলেছেন, ‘১০ বছর আগে যখন আমি এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলতাম, তখন মেয়েদের জন্য কোনো একাডেমি ছিল না। যাতায়াতের খরচ আমাদের নিজেদেরই দিতে হতো, বাবা-মা আমাদের অনুশীলনে পৌঁছে দিতেন। গত পাঁচ বছরে অবস্থার বিপুল পরিবর্তন ঘটেছে। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুধু খেলাটাকেই বদলে দেয়নি, স্পেনে নারী ফুটবলের প্রতি সম্মান ও মর্যাদাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’




