বিশ্বকাপ সম্প্রচার
৩০ কোটির জায়গায় মাত্র ৬ কোটি, চীনের কাছে ফিফার নতিস্বীকার!

প্রতীকী ছবি
বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ২৭ দিন। এই মুহূর্তে এসে বহুল কাঙ্ক্ষিত চীনের বাজার নিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল ফিফা। তবে চুক্তি সই হলেও বড় ধরনের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। যে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ফিফা ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) ডলার আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, শেষ পর্যন্ত তা মাত্র ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ডলারে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে তারা।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘চায়না মিডিয়া গ্রুপ’ (সিএমজি)-এর সঙ্গে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিএমজি-এর সঙ্গে এই চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদি। ২০৩১ সাল পর্যন্ত পুরুষ ও নারীদের পরবর্তী দুটি করে মোট চারটি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব দেওয়া হয়েছে এই চীনা সংস্থাকে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের পুরুষ বিশ্বকাপও। আসন্ন বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাঠের লড়াইয়ে চীনের জাতীয় দল জায়গা করে নিতে না পারলেও, সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্দার আড়ালে চলছিল তুমুল দরকষাকষি। অবশেষে শেষ মুহূর্তে এসে ফিফাকে তাদের কাঙ্ক্ষিত মূল্যের চেয়ে অনেক কমেই রাজি হতে হলো। চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য সম্প্রচার মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৬০ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার হওয়া সত্ত্বেও চীনের ক্ষেত্রে ফিফার দরকষাকষিতে সুবিধা করতে পারেনি ফিফা। এর প্রধান কারণ সময় বা ‘টাইম জোন’। উত্তর আমেরিকার ১৬টি আয়োজক শহরের সঙ্গে বেইজিংয়ের সময়ের ব্যবধান প্রায় ১৫ ঘণ্টার। ফলে অধিকাংশ ম্যাচই চীনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী গভীর রাতে কিংবা ভোরে অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিকূল সময়ে দর্শক সংখ্যা এবং বিজ্ঞাপন রেট কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই চীনা টিভি চ্যানেলগুলো বড় অঙ্কের টাকা লগ্নি করতে রাজি হয়নি। ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম চুক্তি শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিএমজি-এর সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’ চলতি সপ্তাহে তিনি নিজে চীন সফর করেন এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। চীনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলেও ফুটবল বিশ্বের আরেকটি বড় বাজার ভারত নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ফিফা। ভারতের সম্প্রচার স্বত্ব কীভাবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সম্প্রচার স্বত্বে কিছুটা ধাক্কা খেলেও ২০৬২ সালের এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার মোট আয় ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বড় একটি কারণ চীনা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর স্পনসরশিপ। প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘লেনোভো’ ফিফার শীর্ষ আট স্পনসর পার্টনারের একটি। এ ছাড়া ‘মেংনিউ ডেইরি’ এবং ইলেকট্রনিক্স নির্মাতা ‘হাইসেন্স’ দ্বিতীয় সারির স্পনসর হিসেবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে।







