১০ নম্বর জার্সিতে ‘কিং’ পেলের রেকর্ড ছোঁয়ার অপেক্ষায় নেইমার

ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে এবং নেইমার- দুজনেই ১০ নম্বর জার্সিতে বিশ্বকাপ মাতিয়েছেন।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারের সুযোগ পাওয়া বিশ্ব ফুটবলের জন্যই দারুণ এক খবর হয়ে এসেছে। দল ঘোষণার পর থেকেই ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গনে উৎসবের আবহ। এই সুযোগ নেইমারকে এমন এক অনন্য কীর্তির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা ফুটবল ইতিহাসে শুধু একজনই অর্জন করতে পেরেছেন। তিনি আর কেউ নন- ফুটবল সম্রাট পেলে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি গায়ে সর্বোচ্চ চারটি ভিন্ন আসরে মাঠে নামার একমাত্র রেকর্ডটি এতদিন এককভাবে পেলের দখলে ছিল। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে এই ১০ নম্বর জার্সি পরেই পেলে বিশ্বজয় করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে প্রতিপক্ষের একের পর এক ফাউলে জর্জরিত হয়েছিলেন এবং সবশেষে ১৯৭০ সালে ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলেন।
আরেকটি মজার তথ্য হলো, ১৯৫৮ সালের প্রথম বিশ্বকাপে কাকতালীভাবে ১০ নম্বর জার্সি পেয়েছিলেন পেলে। তৎকালীন ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস কনফেডারেশনের কোনোরকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই ফিফার এক কর্মকর্তা সম্পূর্ণ দৈবচয়ন বা লটারির ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের জার্সি নম্বর বরাদ্দ দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই পেলের গায়ে ওঠে ১০ নম্বর জার্সি, যা পরে অমর হয়ে যায়।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সিটি পেয়েছিলেন রিভেলিনো। পেলের পর রিভেলিনো, জিকো এবং রিভালদো ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ দুবার করে ১০ নম্বর জার্সি পরে বিশ্বকাপে খেলেছেন। এবার এই ত্রয়ীকে ছাড়িয়ে পেলের পাশে বসার সুবর্ণ সুযোগ নেইমারের সামনে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ২০১৮ এবং ২০২২ আসরেও ১০ নম্বর জার্সি পরেই তিনি মাঠ মাতিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ব্যালন ডিঅর কিংবা বিশ্বকাপ- কোনোটাই জেতা হয়নি নেইমারের। এবার কি তিনি পারবেন?
‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শুরু হবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে। এরপর ১৯ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর আগে ৩১ মে তারা মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে একটি বিদায়ী প্রীতি ম্যাচ খেলবে। পরদিনই দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে উড়াল দেবেন কার্লো আনচেলত্তি। নিউ জার্সিতে ক্যাম্প করার পর ৬ জুন ক্লিভল্যান্ডে মিসরের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে সেলেসাওরা।
এক নজরে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিধারীরা:
১৯৭০, ১৯৬৬, ১৯৬২, ১৯৫৮: পেলে
২০২২, ২০১৮, ২০১৪: নেইমার
১৯৭৮, ১৯৭৪: রিভেলিনো
১৯৮৬, ১৯৮২: জিকো
২০০২, ১৯৯৮: রিভালদো
১৯৫০: রোসা পিন্টো
১৯৫৪: পিঙ্গা
১৯৯০: সিলাস
১৯৯৪: রাই
২০১০: কাকা
২০০৬: রোনালদিনহো






