ম্যান ইউয়ের নতুন ভরসা বেঞ্জামিন সেসকো

ইনজুরির বিরুদ্ধে লম্বা লড়াই শেষে মাঠে ফিরে নিজের নামের প্রতি পূর্ণ সুবিচার করছেন বেঞ্জামিন সেসকো। দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরিতে ভোগা এই ফরোয়ার্ড গত মার্চে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের পর প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেলেন। সেটা কাজে লাগিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে সাবা এফকের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের জাত চিনিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই স্লোভেনিয়ান স্ট্রাইকার।
বল পায়ে গতি, বক্সে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের কোণঠাসা করে রাখা এবং গোল করার সহজাত প্রবৃত্তি— সব মিলিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণভাগে এক নতুন মাত্র যোগ করেছেন সেসকো। ৪-০ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচটিতে সেশকোর পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ মাইকেল কারিক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, 'সে প্রতিপক্ষের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের হুমকি তৈরি করে। তার শারীরিক গঠন, বল নিয়ে দৌড়ানোর গতি এবং দুর্দান্ত আক্রমণ— সব মিলিয়ে তার বিকল্প পাওয়া মুশকিল। তার ফিটনেস ফিরে পাওয়া এবং মাঠে এ রকম পারফরম্যান্স করা আমাদের জন্য দুর্দান্ত এক ব্যাপার।'
ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি চমৎকার ব্যাক-হ্লিকের পর দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক স্টাস পোকাতিলভকে পরাস্ত করেন সেসকো। এর আগে এভারটনের বিপক্ষেও দারুণ এক ক্লোজ-রেঞ্জ হেডার গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। প্রাক-মৌসুমে দলের আক্রমণভাগে মাথেউস কুনিয়া কিছুটা নিচে নেমে খেলতে পছন্দ করায় মাঝমাঠে কিছুটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার সেসকো সেই শূন্যতা পূরণ করে সরাসরি প্রতিপক্ষের রক্ষণদুর্গ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন।
টানা দুই ম্যাচে দুই গোল করে সেসকো যেভাবে ছন্দে ফিরেছেন, তাতে আসন্ন ম্যানচেস্টার ডার্বির আগে কোচ মাইকেল কারিকের কপালে চিন্তার ভাঁজ কমেছে। তবে তাকে একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ইনজুরির ধকল কাটিয়ে ওঠা সেসকোকে এখন নিয়মিত একাদশে টিকিয়ে রাখাটাই হবে কারিকের মূল কৌশল। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও মাঠের কার্যকারিতায় সেসকো যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করছেন, তাতে রেড ডেভিলদের আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র হয়ে ওঠার পথে দ্রুতই এগিয়ে চলেছেন।




