মেসি কি নবম ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন?

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের জন্য ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। রেকর্ড আটবার এই সোনালি ট্রফি জেতা আর্জেন্টাইন জাদুকর কি পারবেন ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে নবম ব্যালন ডি’অর নিজের করে নিতে? নাকি এটি নিছক একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে সম্মাননা জানানোর প্রচেষ্টা? এসব নিয়েই ফুটবল বিশ্বে চলছে তুমুল বিতর্ক।
ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ প্রকাশিত এই তালিকায় দুই বছর পর জায়গা করে নিয়েছেন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো মেসি। প্রশ্ন উঠছে—পারফরম্যান্সের বিচারে গত এক বছরে তিনি কি সত্যিই বিশ্বের সেরা ছিলেন? অবশ্য ৩৯ বছর বয়সি এই মহাতারকাকে নিয়ে এই প্রশ্নটি তোলা অনেকের কাছেই বেমানান ঠেকতে পারে। কারণ, সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনো সংশয় নেই।
ফিফা পুরুষ র্যাংকিংয়ের
সেরা ১০০টি দেশের ১০০ জন শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিকের একটি জুরি বোর্ড এই পুরস্কারের
জন্য ভোট প্রদান করে থাকেন। এর বাইরে থাকে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফর্ম্যান্স মাঠে
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, অনন্য নৈপুণ্য এবং ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার দক্ষতা। পারফর্ম্যান্স
ছাড়াও ক্লাব এবং জাতীয় দলের জার্সিতে অর্জিত দলীয় সাফল্য, বড় টুর্নামেন্টে ট্রফি জয়
বা গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মাঠের ভেতরে এবং বাইরে খেলোয়াড়ের ক্রীড়াসূলভ আচরণ, শৃঙ্খলা
এবং ব্যক্তিত্বও এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়।
পুরস্কারের জন্য বিবেচিত ২০২৩ সালের আগাস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে ৩৯ বছর বয়সী মেসি যা করেছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার মাটিতে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে তিনি চিরচেনা ছন্দে ছিলেন। আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হলেও মেসি টুর্নামেন্টে ৮টি গোল করেছেন। পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্ট এবং রেকর্ড ২৫টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন এ ফুটবল জাদুকর।
ক্লাব ফুটবলেও তার ফর্ম ছিল ঠিক আগের মতোই ধারালো। ইন্টার মায়ামির হয়ে লিগের শেষ ১৬ ম্যাচে ১৭টি গোল ও ১৯টি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি ২০২৬ সালের প্রথম ১৪ ম্যাচেও ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন। জিতেছেন এমএলএস মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ারের পুরস্কার। সবমিলিয়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে এই সময়ের মধ্যে ৪৬ ম্যাচে ৭৮টি গোল অবদান (৪৪ গোল ও ৩৪ অ্যাসিস্ট) রেখে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ আবারও দিয়েছেন মেসি।
তবে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের অবিশ্বাস্য সাফল্যের বিপরীতে মেসির এসব সাফল্য কতটা কার্যকর হবে— সেটা আলোচনার বিষয়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩টি গোল করেছেন কেইন। বায়ার্নকে জিতিয়েছেন বুন্দেসলিগা, ডিএফবি-পোকাল ও ডিএফএল-সুপারকাপের মতো ঘরোয়া ট্রেবল। বাজির লড়াইয়েও তালিকার এক নম্বরে অবস্থান করছেন কেইন। তাই ইউরোপীয় ফুটবলের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের লিগে খেলা এবং কেইনের গোলবন্যার তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকা তার জয়ের পথে বড় বাধা হতে পারে। এ ছাড়া রোদ্রির বিশ্বকাপ জয়, কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা মেসির লড়াইটিকে বেশ কঠিন করে তুলেছে।







