বিআরএসএর দাবি
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনে জটিলতা কমবে

সংগৃহীত ছবি
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর কয়েকটি ধারা সংশোধনের কারণে এসংক্রান্ত জটিলতা কমে যাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিআরএসএ)। আইনটি সংশোধন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দীন আব্দুল্লাহ। মঙ্গলবার তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বৃদ্ধ মা-বাবা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিরা জীবদ্দশায় সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিদের সম্পত্তি দান করার পর অনেক সময় সেই সম্পত্তিতে নিজেদের বসবাস বা ভোগদখলের অধিকার হারিয়ে ফেলেন। কখনো দান করা সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া, আবার কখনো বৃদ্ধ দাতা ও তার পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দান করা সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে গেলেও দলিল বাতিল করার ক্ষমতা তার নেই। দলিল বাতিলের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এমন বাস্তবতায় সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এ নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজনের ফলে ‘ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণসহ দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন একটি আইনি ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
বিআরএসএ মনে করে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এ ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন একটি যুগোপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের সম্পত্তি দানের পর তাদের ভোগদখল ও নিরাপত্তার বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যে সুরক্ষিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সম্পত্তি দান করলেও নিজের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ ধরনের দান করতে হবে। তবে এই সুবিধা নির্দিষ্ট সম্পর্কের মধ্যে প্রযোজ্য হবে। বাবা-মা ও সন্তান, দাদা-দাদি বা নানা-নানি ও নাতি-নাতনি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ ধরনের দান করা যাবে। একইভাবে সন্তান বা নাতি-নাতনিও বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে এভাবে সম্পত্তি দিতে পারবেন।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ১২২এ ধারায় বলা হয়েছে, দাতা যদি সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করেন, তাহলে সেই দান বৈধ হবে। অর্থাৎ সম্পত্তির মালিকানা দানগ্রহীতার কাছে গেলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার তার কাছেই থাকবে। দাতার জীবদ্দশায় দানগ্রহীতার মৃত্যু হলে ওই সম্পত্তি আইন অনুযায়ী দানগ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে। তবে দাতার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে এবং তা সম্পত্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণসহ দানের ক্ষেত্রে দাতার অধিকারকে আরও সুরক্ষিত করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, এ ধরনের দান নিবন্ধনের পর সাধারণভাবে তা অপরিবর্তনীয় বা বাতিল-অযোগ্য হবে। তবে দাতা ও দানগ্রহীতা উভয়ের সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দানের শর্ত পরিবর্তন, প্রত্যাহার বা অন্যভাবে নিষ্পত্তি করা যাবে। এর জন্য আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষাগত, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন থাকতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধীনে নির্দিষ্ট সম্পর্কের মধ্যে হেবা বা হেবার ঘোষণাপত্র করা যায়। একইভাবে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সম্পর্কের মধ্যে দানের ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো—‘ভোগ-দখলের অধিকার সংরক্ষণসহ দান’ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংশ্লিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সব ধর্মের মানুষ এ সুবিধা নিতে পারবেন। নতুন বিধানটি, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবদ্দশায় সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর দাতা যাতে নিজের বসতবাড়ি বা সম্পত্তির ভোগদখল থেকে বঞ্চিত না হন, এ ব্যবস্থায় সেই অধিকার আগেই আইনি কাঠামোর মধ্যে সংরক্ষণ করা যাবে।





