জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ ইসরায়েলের

ছবি: রয়টার্স
জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার নেতৃত্ব দিয়েছে ব্রিটেন। এরপর আজ মঙ্গলবার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে কনস্যুলেটটি স্বীকৃত ছিল।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেছেন, পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনে যুক্তরাজ্য আর অংশ নিতে পারবে না। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বাহিনীকে ব্রিটেন যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল, সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের নির্বাচিত কিছু কর্মকর্তা ও অন্যান্য কয়েকজন নাগরিকের ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
তিনি বললেন, ‘ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ নৈতিকভাবে বিকৃত এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র ও তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের শামিল।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের আগে যে অভিযোগগুলো করেছিলেন, সেগুলোকে ‘ভয়াবহ মিথ্যা’ বলেও অভিহিত করেন সার।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড হাউস অব কমন্সে দেওয়া এক ভাষণে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আরও বেশ কিছু শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রমের বিষয়ে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে দেওয়া সবচেয়ে কঠোর সমালোচনাও ছিল এই ভাষণে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ ‘বেআইনি দখলদারিত্বের’ নিন্দা করে মিলিব্যান্ড ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সমালোচনা করেন। তিনি বললেন, ‘বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।’ এ সময় তিনি জাতিসংঘের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, চলতি বছর পশ্চিম তীরে প্রতিদিন গড়ে ছয়টি করে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা রেকর্ডে সর্বোচ্চ।
তিনি আরও বলেছেন, ‘ব্রিটিশ সরকার একমত যে পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধন চলছে।’ তার অভিযোগ, ‘ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে এবং আরও খারাপ বিষয় হলো, সরকারের কয়েকজন সদস্য ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন এবং পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে ব্রিটেন। বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ‘দখলদারিত্বে’ উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করবে— এমন অস্ত্র ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির লাইসেন্সও দেওয়া হবে না।
তিনি জানিয়েছেন, ফ্রান্স ও কানাডা ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। আরও কয়েকটি দেশ ‘পরবর্তী পদক্ষেপে সমর্থন’ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এরপর পশ্চিমা কয়েকটি দেশ যৌথভাবে বসতি থেকে আসা পণ্যের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় পদক্ষেপকে সমর্থন এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক আইনে বেআইনি হিসেবে বিবেচিত বসতিগুলো থেকে পণ্য বাণিজ্যের ওপর জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউরোপীয় বিধিনিষেধকে সমর্থন করার ‘ইচ্ছা’ তাদের রয়েছে। তারা জানায়, জাতীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব ও অন্যান্য পদক্ষেপ সক্রিয়ভাবে বিবেচনাও করছে।
১২টি দেশই দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
তারা ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানায়, ‘অবিলম্বে বসতি সম্প্রসারণ ও বেসামরিক প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানো বন্ধ করতে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করতে হবে।’
সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল






