‘একজন ফ্যাসিস্টের দোসর আরেকজন লালবদর, অথচ সবার পরিচয় ছিল শিল্পী’

শবনম ফারিয়া
সহকর্মীদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন ও ক্ষোভমিশ্রিত একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। সেখানে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সুখে-দুঃখে পাশে থাকার স্মৃতি তুলে ধরে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শবনম ফারিয়া লিখেছেন, কিছু মানুষের এমন অদ্ভুত চেহারা দেখছি, নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছি না, নিজের মনকে বুঝাতে পারছি না… এই মানুষগুলোর সাথে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতাম, ১২-১৫ ঘণ্টা একই মেকআপ রুম শেয়ার করতাম, লান্চ সার্ভ করলে অপেক্ষা করতাম, সবাই একসঙ্গে না হলে খেতাম না। মেকআপ, কস্টিউম, গয়না শেয়ার করতাম, তাদের খুশিতে খুশি হতাম, তারাও আমার খুশিতে খুশি হতো। দূর থেকে দেখলে দৌড়ে যেতাম, ‘আপু কতদিন পর দেখলাম।’
তিনি বলেছেন, ‘কিন্তু কী যেন বদলে গেল, কিছু কিছু আপন মানুষকে কেন যেন খুব অচেনা লাগে, তাদের চিন্তা-চেতনা এত ভিন্ন ছিল, কোনোদিন মনেই হয়নি। আমরা অ্যাক্টর্স ইক্যুইটির সবাই কী আনন্দের সাথে ভোট দিতাম, পহেলা বৈশাখে বশির ভাইয়ের দেওয়া ম্যাচিং শাড়ি পরে ছবি তুলতাম। আমরা হঠাৎ এত অপরিচিত হয়ে গেলাম কেন?’
সহকর্মীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শবনম ফারিয়া। তিনি লেখেন, ‘এ এক ফ্যাসিস্টের দোসর, আবার আরেকজন ‘লালবদর’। অথচ আমাদের পরিচয় ছিল আমরা সবাই শিল্পী, আমরা সহকর্মী, আমরা একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়াই।’
এরপর সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘আমার বাবা যখন অসুস্থ ছিল, তারিন আপুর সঙ্গে আমার সরাসরি পরিচয় নেই, কিন্তু আমি একটা দরকারে কল করলাম, আপু তার কানেকশন দিয়ে সব ম্যানেজ করে দিল। আমি কি এই জীবনে এ উপকার ভুলতে পারব? আমার এক ফ্রেন্ড পিজিতে ভর্তি, চাঁদরাত, মামুন আঙ্কেলকে কল দিলাম, আঙ্কেল রাত ১২টায় সব ম্যানেজ করে দিল।’
রওনক ও নাসিম ভাইয়ের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘রওনক ভাই আর নাসিম ভাইকে আমি কী জ্বালাইছি, তা তো বলার বাইরে। আমাকে নিয়ে লিটারালি বিচারে বসতে হইসে তাদের, কোনোদিন রাগ তো দূরের কথা, উল্টো আমার হয়ে বাকিদের ফেস করতো।’
শহিদুজ্জামান সেলিমের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেছেন, ‘শহিদুজ্জামান সেলিম ভাইকে আমি ভাই ডাকি, কিন্তু কনসিডার করি বাবা হিসাবে। এখানে আমি আমার সিনিয়রদের কী পরিমাণ আদর পেয়েছি, সেইটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’
সবশেষে কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া পারিবারিক সম্পর্কের মতো ভালোবাসার কথা তুলে ধরে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, ‘আর কোনো প্রফেশনে এমন বাবা-মার মতো কলিগ কিংবা পরিবারের আদর কর্মস্থলে পাওয়া যায় বলে আমার জানা নাই। কিন্তু কী জানি হয়ে গেল আমাদের।’






