জোসে মরিনহো
৯০ মিনিট ইন্টারের প্রতি আবেগ থাকবে না

সংগৃহীত ছবি
ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচের আগে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো ক্লাবের পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক হার আর আগামীকালের মঙ্গলবারের ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে। তুলে ধরা হলো এর চুম্বক অংশ
জয়ের মানসিকতা
আমি জিততে চাই। আমি আপনাকে বলতে পারতাম যে আমি ভালো ফুটবল দেখতে চাই, কিন্তু বেতিসের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলেছিলাম এবং হেরে গেছি। তাই আমি শুধু জয় চাই। আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম পর্ব শুরু করছি, যেখানে যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের আটটি ম্যাচ রয়েছে এবং বিশ্বাস আমরা তা নিশ্চিত করব। তাই আমার লক্ষ্য জয়।
প্রথম হারের পর ড্রেসিংরুমের অবস্থা
আমি যেভাবে খেলোয়াড়দের দেখতে পছন্দ করি, ঠিক সেভাবেই দেখেছি। সেভিয়ার লকার রুমে তাদের পুরোপুরি ক্লান্ত দেখেছি, রবিবারের অনুশীলনে বেশ সতেজ হয়ে উঠতে দেখেছি, আর এখন একদম স্বাভাবিক দেখেছি। ম্যাচ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা ভালো খেলেছি এবং দল ভালো ফর্মে আছে। আগামীকালের ম্যাচের জন্য আমাদের কিছু জানায় সমস্যা রয়েছে, তবে আমরা লড়াই করব এবং জিততেই মাঠে নামব।
কোচিং ক্যারিয়ারে চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্ব
অবশ্যই, বার্নাব্যুতে আমি চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জিতেছি (ইন্টারের হয়ে ২০১০), আবার টাইব্রেকারে সেমিফাইনালেও হেরেছি— ওই স্টেডিয়ামে আমার সেরা এবং সবচেয়ে খারাপ স্মৃতি— দুটিই জড়িয়ে আছে। তবে এখন আমি তা নিয়ে ভাবছি না। ভাবছি, আমি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ এবং আগামীকালের ম্যাচটি এমন নয়; যা এখনই সব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে, বা এটি কোনো নকআউট পর্বও নয়। আমরা এবং ইন্টার— দুই দলই পরের পর্বে যাব। এরপর ব্যাপারগুলো যখন আরও জটিল রূপ নেবে, তখন হয়তো আবারও আমাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
মিডফিল্ডে বিকল্প খেলোয়াড়
আমি কোনো মন্তব্য করব না। দুঃখিত, আমি সত্যি বলছি, এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। জানি না, ক্যালেন্ডারের এই সূচি তৈরির অ্যালগরিদম ইতালীয় ভাষা বোঝে কি না, তবে এবার সূচিটি এভাবেই তৈরি হয়েছে এবং আমাদের তা মেনে নিতেই হবে। আমাদের হাতে ৩, ৪ বা ৫টি বিকল্প রয়েছে এবং আমরা তা নিয়ে কথা বলতেই পারি, কিন্তু দিনশেষে আমি আপনাকে কিছুই বলব না।
ইন্টার মিলানের প্রতি অনুভূতি
ইন্টার আমার সাবেক ক্লাব। ওদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছি। তবে এবার ম্যাচ চলার সময় কোনো সহানুভূতি বা আবেগের সুযোগ নেই। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর নিশ্চিতভাবেই আছে। খেলার ৯০ মিনিট তা সম্ভব নয়, আর এটাই স্বাভাবিক।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন
রিয়াল মাদ্রিদে আমার প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছিল ২০১৩ সালে— আমরা যা কিছু জিতেছি বা হেরেছি, তা অতীত। তখনকার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১০ সালে বহু বছর ধরে রিয়াল চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে খেলতে পারেনি, আর এখন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দলটি অনেকবারই তা খেলেছে। তবে এই সাফল্য আমাকে বদলে দেয়নি। আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে রোমাঞ্চিত কি না— অবশ্যই আমি রোমাঞ্চিত, তবে এটি অতীতের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।
ইন্টারের সাফল্য নিয়ে
এখন এটি কেবলই একটি সাধারণ ম্যাচ। ইন্টার মিলানে তারা ম্যাচের আগে ও পরে আমাকে বন্ধুর মতো দেখে, তবে ম্যাচ চলার সময় তারা সেভাবে দেখবে বলে মনে হয় না, কারণ আমি রিয়াল মাদ্রিদের বেঞ্চে বসে থাকব। পুরনো পরিচিত মানুষের দেখে আনন্দ লাগবে, যদিও আমার সময়ের অনেকে আর সেখানে নেই এবং অনেককে আমি চিনিও না। তবে তারা সবাই ইন্টারের ভালো চায়।
মরিনহোর অধীনে নতুন রিয়াল মাদ্রিদ
আমি এমন একটি ক্লাবকে পেয়েছি যা নিজের সত্ত্বা ধরে রেখেছে। গত মৌসুমটি তাদের জন্য কিছুটা জটিল ছিল। আর তেমনটা ঘটলে অনেক কিছুতেই উন্নতির প্রয়োজন পড়ে। একটি স্থায়ী ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা দরকার যেন সব প্রতিযোগিতায় জয় সম্ভব হয়। ইন্টারের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছর তাদের মধ্যে ধারাবাহিকতা রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদকেও সেই স্থায়িত্ব অর্জনের চেষ্টা করতে হবে, আর আমাদের মূল লক্ষ্য সবসময় জয়।
রেফারিং সিদ্ধান্ত ও পেনাল্টি বিতর্ক
আমি ইউরোপ বা স্পেনের রেফারিং নিয়মকানুনের মান নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের বাইরে গিয়ে মূল বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য আমাকে মাফ করবেন। বেতিসের কাছে আমাদের হারের মূল কারণ ছিল আক্রমণভাগের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারা। কিন্তু যে পেনাল্টিটি দেওয়া হয়েছিল, তা কেন রি-টেক নেওয়া হলো না? ভিএআর কি নিয়ম জানত না, নাকি তারা ইচ্ছে করেই তা নেয়নি? আমি এর জবাব চাই। ভিএআর যদি নিয়ম না জানার কারণে রি-টেকের নির্দেশ না দিয়ে থাকে, তবে তাদের বাড়ি চলে যাওয়া উচিত। আর যদি তারা ইচ্ছে করে এমনটা করে , তবে তা আরও গুরুতর অপরাধ। ভিএআর কেন ফিল্ড রেফারিকে ডেকে পাঠাল না? এটা খুবই অদ্ভুত। আমি তাদের প্রতি সৎ থেকে ধরে নিচ্ছি যে তারা নিয়মটি জানত না, কিন্তু নিয়ম যদি থেকেই থাকে, তবে ভিএআর এর দায় এড়াতে পারে না। কারণ, আগামী মাসগুলোতে ঠিক একই ঘটনা ঘটলে দেখা যাবে পেনাল্টিটি ঠিকই রি-টেক করানো হচ্ছে। আমি পরিষ্কার করতে চাই,শুধু ওই একটি ভুলের কারণে আমরা হারিনি— কারণ রি-টেক পেলেও আমরা তা মিস করতে পারতাম। তবে একজন ফুটবল কোচ হিসেবে আমি জানতে চাই, কেন পেনাল্টিটি আবারও নেওয়া হলো না। আরেকটি বিষয় আমি জানতে চাই, দলের অধিনায়ক হওয়ার পরও ভিনিসিয়ুস কেন বিচার চাওয়ার জন্য রেফারির কাছে যেতে পারল না। আমি শুধু এই বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা চাইছি। আপনার প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
এনদ্রিককে নিয়ে ভাবনা
ইন্টারের বিপক্ষে সে সর্বোচ্চ ৫-১০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে, এর বেশি নয়। সে গতকালই প্রথম দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছে। বুদাপেস্টের প্রীতি ম্যাচের পর সে আর খেলেনি, তাই এর চেয়ে বেশি খেলার মতো শারীরিক অবস্থা তার নেই। তবে আমাদের বেঞ্চে যেহেতু অনেক জায়গা ফাঁকা আছে, তাই তাকে ৫-১০ মিনিটের জন্য মাঠে নামানোই ভালো হবে। সে একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় আর ফরোয়ার্ড হিসেবেই খেলবে। চিন্তার কিছু নেই, তাকে আমি সেন্ট্রাল ব্যাক বা লেফট ব্যাকে খেলাব না।





