ক্লাদিও তাপিয়া
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমালোচনা এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লাদিও তাপিয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান সমালোচনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল শেষে ফকল্যান্ডস ব্যানার প্রদর্শনকেও তিনি জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন।
বিশ্বকাপজুড়ে সমালোচকদের দাবি ছিল, ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে। রেফারির সিদ্ধান্তগুলো সবসময় তাদের পক্ষেই গেছে। এসব সমালোচনা প্রসঙ্গে টিওয়াইসি স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপিয়া বলেন, ‘আমার খারাপ লাগে... কারণ এমন কিছু মানুষ আছে যারা চায় না আমাদের জাতীয় দল ভালো করুক। আমাদের জনগণ রাস্তায় নেমে উল্লাস করলে মনে হয় তাদের গায়ে জ্বালা ধরে! তারা আমাদের জাতীয় দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।’ বিশ্বকাপের ফাইনাল ও বিভিন্ন ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এএফএ সভাপতি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের দলকে ঘিরে কোনো না কোনো বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে! কারণ, মানুষ এমন একটি দলের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করেছে যা আগে কখনো হয়নি। এই জাতীয় দল দেশবাসীকে যে আনন্দ দিয়েছে, তা আর কখনই দেখা যায়নি। সম্ভবত আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল সঠিক কোচ বেছে নেওয়া এবং তার পাশে অবিচল থাকা।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের পর আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ডস পতাকা প্রদর্শন নিয়েও বিতর্ক কম হয়নি। ফিফা এই ঘটনার তদন্তও করছে। তবে খেলোয়াড়দের এই উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছেন তাপিয়া, ‘ওই ম্যাচের মাধ্যমে তারা এমন একটি বিষয়কে বিশ্বের কূটনৈতিক এজেন্ডায় নিয়ে আসতে পেরেছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন কোনো আলোচনা হয়নি। ত্রিশটিরও বেশি দেশের মানুষ জিজ্ঞেস করেছে- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নাম যদি আর্জেন্টাইন (ম্যালভিনাস) হয়, তবে কেন সেটিকে অন্য নামে ডাকা হয়?’ এই ঘটনায় ফিফার সম্ভাব্য শাস্তির নিয়ে তাপিয়া আরও বলেন, ‘আমরা কিছু গণমাধ্যমে দেখেছিলাম যে, এসব ব্যানার নিয়ে মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে ফিফার পক্ষ থেকে চার-পাঁচ দিন আগে একটা রিপোর্ট ছাড়া বিশেষ কিছু আমরা পাইনি। কোনো তিরস্কার বা সতর্কবার্তাও ছিল না। আপনি যদি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ওই ম্যাচটি খেলতেন এবং মানুষ যদি সেই পতাকার মাধ্যমে আপনাদের কাছে অনুভূতি প্রকাশ করত, তবে আপনি কি এটি মাটিতে ফেলে দিতেন নাকি উঁচিয়ে ধরতেন? আমি অবশ্যই উঁচিয়ে ধরতাম, কারণ আমরা আর্জেন্টাইন এবং আমরা এ নিয়ে গর্বিত।’







