ট্রাম্পের আত্মীয়কে সুবিধা দিতে গিয়ে বিপাকে ইনফান্তিনো

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি বিতর্কিত আর্থিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে চরম সংঘাতে জড়িয়েছে ফিফা ও উয়েফা। ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন ইনফান্তিনো। আর এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফিফা প্রতিযোগিতার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় উয়েফার পক্ষ থেকে এক চরমপত্র দিয়ে জানানো হয়, 'উয়েফা এবং এর জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলো ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।' মাত্র ১১ শব্দের এই কঠোর ঘোষণায় বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
উয়েফার এই পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়েলসের সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার ও উয়েফার সহ-সভাপতি লরা ম্যাক অ্যালিস্টার। তিনি বিবিসিকে বলেন, 'এটি উয়েফার তৈরি করা কোনো সমস্যা নয়, এটি ফিফার তৈরি করা সমস্যা। আমরা এমন এক কোণায় নিক্ষিপ্ত হয়েছি যেখান থেকে বের হওয়ার উপায় নেই।' এছাড়া উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতার ভাই জোশুয়া কুশনারসহ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সুসম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে উপযুক্ত আলোচনা ও পরামর্শ ছাড়াই ইনফান্তিনো একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ফিফার ভেতরেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফিফার অর্থ কমিটির প্রধান ও স্কটিশ এফএ প্রধান মাইক মুলরানি এবং এফএ চেয়ার ডেবি হিউইটসহ অনেকেই উয়েফার এই অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
উয়েফার এই বয়কটের হুমকি বাস্তবায়িত হলে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পোল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ এবং অক্টোবরের নারী বিশ্বকাপের প্লে-অফ ম্যাচগুলো চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। কারণ ইউরোপের দেশগুলো অংশ না নিলে এসব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতার মান প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে যাবে। ফিফার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৪০ বিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি করাও তখন অসম্ভব হয়ে পড়বে।২০১৬ সাল থেকে ফিফা সভাপতির দায়িত্বে থাকা সুইজারল্যান্ডের জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগামী মার্চে চতুর্থ মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই ঘটনার পর তার নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। সাবেক এফএ চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টাইন মনে করেন, এমন বড় একটি সংকটের পর স্বাভাবিকভাবেই সংস্থার প্রধানকে বিদায় নিতে হয়। তবে ফিফা তো আর সাধারণ কোনো সংস্থা নয়। উয়েফার সাবেক প্রধান লার্স-ক্রিস্টার ওলসনও মনে করছেন, ইনফান্তিনো নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং ফুটবলের নেতৃত্বে পরিবির্তনের সময় এসেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইনফান্তিনোকে শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা যেমন ইউরোপকে ছাড়া চলতে পারে না, তেমনি ইউরোপও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর থেকে দূরে থাকতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদে এই সংকটের একটি সমঝোতা না হলে বিশ্ব ফুটবল এক নজিরবিহীন বিভাজনের মুখে পড়তে পারে।






