ফিফার ‘বিশ্বকাপ বিক্রি’তে কার লাভ কার ক্ষতি

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপই ফুটবলে আবেগ। আর সেই আবেগই বিক্রি করতে চাইছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো! বিশ্বকাপসহ ফিফা তাদের ফুটবল শেয়ার বা মালিকানার একাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এরই মধ্যে। এরপর থেকেই ভক্ত, রাজনীতিক এবং আঞ্চলিক গভর্নিং বডিগুলোর মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ইনফান্তিনোর মতে এই চুক্তির মূল আকর্ষণ হলো, এটি চূড়ান্ত হলে ফিফার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি দেশ ‘ফুটবলের উন্নয়নের জন্য’ ২ কোটি ডলার করে তহবিল পাবে। এক দশক আগে ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনোর এটাই সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ।
ফিফা যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে ইনফান্তিনো দীর্ঘমেয়াদে তার ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করবেন এবং পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদেরও বিপুল অর্থ উপার্জনের পথ তৈরি করে দেবেন।
প্রশ্ন হলো, ইনফান্তিনো কীভাবে এত বিতর্কিত পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পাচ্ছেন এবং এর পরিণতিই বা কী হতে পারে? ইনফান্তিনো কীভাবে এই পরিকল্পনা পাস করাতে পারেন এবং তাকে কি অপসারণ করা সম্ভব?
ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর হাতে যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয়, এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার চেয়ে বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ২০১৬ সালে ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনো আফ্রিকা, এশিয়া এবং আমেরিকার বহু দেশের কাছ থেকে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক সমর্থন পেয়ে আসছেন। কারণ, তার বিভিন্ন নীতির ফলে এই দেশগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে।
এই নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮টি করা, ফিফার তত্ত্বাবধানে বাণিজ্যিক ও সম্প্রচার রাজস্ব বৃদ্ধি এবং একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোকে প্রতি বছর সরাসরি কোটি কোটি ডলারের তহবিল বরাদ্দ দেওয়া। তাই ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি দেশ তার অনুগত হয়ে গেছে।
প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা কতটা?
ফিফার যে কোনো ভোটে কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫০%+ ভোট) প্রয়োজন হয়—অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি দেশ পক্ষে ভোট দিলেই ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা কার্যকর হয়ে যাবে। এই প্রস্তাবটি অনেক দেশের কাছেই আকর্ষণীয় হবে, বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বের তুলনামূলক ছোট ও পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর কাছে। কারণ, তাদের জন্য ২ কোটি ডলার অনেক লোভনীয় যা সাধারণ সময়ের কয়েক বছরের আয়ের চেয়েও বেশি।
ইনফান্তিনো যেরকম সমর্থন পাচ্ছেন, তাতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মানসিকতাকে আরও বেশি সাহসী করে তুলেছে। যেমন—বিশ্বকাপে ড্রিংকস বা 'হাইড্রেশন ব্রেক' চালু করা এবং হাফ-টাইমে মিউজিক্যাল শো-এর মতো সিদ্ধান্তগুলো কোনো সদস্যের ভোট ছাড়াই তার প্রশাসন এককভাবে নিয়েছে। অথচ এক দশক আগে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, তখন এমন কিছু কল্পনাও করা যেত না। এছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফিফা যে ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (থ্রাইভ ক্যাপিটাল) সঙ্গে চুক্তি করছে, তার নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কার দেবর জোশ কুশনার। ফিফা জানিয়েছে, ফর্মুলা ওয়ানের মালিক প্রতিষ্ঠান লিবার্টি মিডিয়ার সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট গ্রেগ মাফেই (যিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচারণায় অনুদান দিয়েছেন) এই চুক্তিতে ‘প্রধান বাণিজ্যিক উপদেষ্টা’ হিসেবে কাজ করছেন।
এই প্রস্তাবটি মূলত ইনফান্তিনোর গত কয়েক বছরের সেই চেষ্টারই ফসল, যার মাধ্যমে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের এবং ফিফার সম্পর্ক জোরদার করতে চেয়েছেন। তিনি একটি 'পিস প্রাইজ' বা শান্তি পুরস্কার তৈরি করে তা ট্রাম্পকে দিয়েছেন। নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার একটি কার্যালয় খুলেছেন। ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি তিনি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন। এমনকি ট্রাম্প বক্তৃতায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডা ও মেক্সিকোকে হুমকি দিয়ে কথা বলেছিলেন, সেখানে ইনফান্তিনোকে ট্রাম্পের সঙ্গে হেসে সায় দিতে দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সুরেই একটি বিবৃতি দিয়েছেন। যেখানে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিভিন্ন বিষয়ের সমালোচকদের তিনি "ক্ষোভ ও সমালোচনায় জর্জরিত" বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে ইনফান্তিনো বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে নিজের গড়ে তোলা সম্পর্ককে কাজে লাগাচ্ছেন, যার উদ্দেশ্য দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক একটি ফল নিশ্চিত করা।
এই সম্ভাব্য শেয়ার বিক্রির বিষয়ে ফিফা এককভাবেই আলোচনা চালিয়েছে, যা অন্য দেশ ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কারণ তাদের মনে হয়েছে, অন্ধকারে রেখে এই কাজ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি হলেও, অন্য দেশগুলোর শক্ত সমর্থনের কারণে ইনফান্তিনোকে এর জন্য পদচ্যুত করার সম্ভাবনা খুবই কম।
ইনফান্তিনো এবং বিনিয়োগকারীদের লাভ কী?
ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে প্রতিটি দেশে পাঠানো হয়েছে এক চিঠি। চিঠির পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে ফিফা এককালীন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাবে এবং জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য নির্ধারিত অংশ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পেতে শুরু করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই প্রস্তাব নিয়ে আমাদের সামনে এগোনো উচিত কি না, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আপনাদের। বিনিময়ে শুধু আপনাদের বিশ্বাসটুকু চাই—বাকি সবকিছু আগের মতোই থাকবে।’ এখানে মূল হিসাবটা একেবারেই স্পষ্ট—আমাদের ধনী হতে ভোট দিন, আমরাও আপনাদের ধনী করে দেব।
প্রতিটি বিশ্বকাপে এর আগের সংস্করণের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি আয় হয়।
ফিফা যদি এখনই শেয়ার বিক্রি করে দেয়, তবে আগামী বছরগুলোতে এই অর্থ বৃদ্ধির বড় অংশ ফিফা বা ফুটবল একা ভোগ করার বদলে শেয়ার করা প্রাইভেট ইনভেস্টর বা ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের পকেটেও যাবে। অথচ সুইজারল্যান্ডের আইন অনুযায়ী ফিফা একটি অলাভজনক সংস্থা । যার মূল লক্ষ্য অন্তত তাত্ত্বিকভাবে হলেও ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ নিশ্চিত করা, মুনাফা অর্জন করা নয়।
তাই এই পরিকল্পনার মূল বিজয়ী মূলত কিছু ছোট ফুটবল দেশ, প্রাইভেট ইনভেস্টর এবং স্বয়ং ইনফান্তিনো।
ফিফার গর্ভনেন্স কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মিগুয়েল মাদুরো বলেছেন,‘কিছু জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন কীভাবে তাদের অর্থ খরচ করে, সে সম্পর্কে আমরা যা জানি, তাতে ফিফার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ফুটবলের মূল স্তরে পৌঁছায় কি না—তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।’
মাদুরোর দাবি, ইনফান্তিনো এবং ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গর্ভনেন্স কমিটির কাজের অমিল বা মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় তিনি মাত্র ১০ মাস পর সেই পদ ত্যাগ করেছিলেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফিফা একটি রাজনৈতিক কার্টেলের মতো কাজ করে— স্বজনপোষণের একটি ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে এটি টিকে থাকে। ফিফা জাতীয় ফেডারেশনগুলোকে যে অর্থ দেয় তার মাধ্যমেই তারা পরিচালিত হয়। সেখানে দুর্নীতিরও অনেক নজির রয়েছে। এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। এটি আসলে 'বৈধ ঘুষ'-এর একটি রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।’’
বাস্তবতা হচ্ছে, প্রাইভেট ইক্যুইটি বিনিয়োগ আমেরিকার ক্রীড়া জগৎকে বদলে দিয়েছে। গত এক দশকে বেসবল, বাস্কেটবল, আমেরিকান ফুটবল এবং আইস হকিতে মাইনরিটি ইনভেস্টমেন্ট বা ক্ষুদ্র শেয়ার কেনার সুবিধা দিতে নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে, তাতে দলগুলোর আর্থিক মূল্য বহুগুণ বেড়ে গেছে।
স্পেনের লা লিগা এবং ফ্রান্সের লিগ ১- বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের অপারেশনের অংশবিশেষ 'সিভিসি ক্যাপিটাল পার্টনার্স' নামের প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মের কাছে বিক্রি করেছে। ইনফান্তিনো খেলার অর্থনীতির এই প্রবণতাকেই অনুসরণ করছেন, নতুন কিছু করছেন না। তবে এতে সফল হলে নিজের ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করে নেবেন।
ইনফান্তিনো ও চেফেরিনের দ্বন্দ্বের কারণ কী এবং এর শেষ কোথায়?
ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাব ইউরোপীয় ফুটবলের গভর্নিং বডি উয়েফার সঙ্গে চলা দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করে তুলেছে। উয়েফা হলো ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধনী আঞ্চলিক সংস্থা।
ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে আমেরিকান স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা ফিফা তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে উয়েফা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার চেফেরিন বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ বয়কট করেছিলেন।
এর পর উয়েফা একে একে বেশ কিছু ঘোষণা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ডায়নামিক টিকিট প্রাইসিং (চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম নির্ধারণ) এবং হাইড্রেশন ব্রেক-এর মতো বিতর্কিত ফিফা নীতিগুলো তারা অনুসরণ করবে না।
এই বিভাজনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফিফার নতুন আঙ্গিকের এবং সম্প্রসারিত 'ক্লাব বিশ্বকাপ'। এটি এখন উয়েফার ঐতিহ্যবাহী 'চ্যাম্পিয়নস লিগ'-এর জন্য সরাসরি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতীতে কেবল উয়েফাই একমাত্র সংস্থা ছিল, যারা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করত, যা কোটি কোটি মানুষ দেখত এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মুনাফা আসত। কিন্তু গত গ্রীষ্মে ফিফা অন্যান্য মহাদেশের ক্লাবগুলোকে যুক্ত করে উয়েফার সেই একচ্ছত্র আধিপত্যের জায়গায় থাবা বসিয়েছে।
কিছু জাতীয় ফেডারেশন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ফিফা যখন পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আনে তখনই তারা কেবল প্রথম এটি জানতে পেরেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত অনেক বিবৃতিতে এই শেয়ার বিক্রির মূল ধারণাকে সরাসরি বা স্পষ্টভাবে সমালোচনা করা হয়নি। তারপরও উয়েফার অনেক সদস্যই এই পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষুব্ধ এবং এর জবাব কীভাবে দেওয়া যায় তা আলোচনার জন্য একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার উয়েফা সরাসরি বলেছে, ফিফার এই পরিকল্পনা হলো— ‘আমাদের খেলাকে ব্যবহার করে নিজেদের এবং তাদের বন্ধুদের পকেট ভারী করা।’
কিছু প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলো বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিতে পারে। তত্ত্বটি হলো—ইউরোপীয় দেশগুলোকে ছাড়া বিশ্বকাপ হলে ফিফার কাছে এই টুর্নামেন্টের আকর্ষণ ও বাণিজ্যিক মূল্য কমে যাবে। তবে এমন বয়কট বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা বেশ কম বা বিতর্কিত।
কারণ ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপের অন্যতম মূল আয়োজকই হলো ইউরোপ। মরক্কোর পাশাপাশি স্পেন এবং পর্তুগালে বেশিরভাগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি মরক্কোকে হারিয়ে ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের স্বত্ব পেতে স্পেন জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে।
তাছাড়া আগামী বছর ব্রাজিলে নারী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উয়েফা যদি সত্যিই কোনো কঠোর বা সাহসী পদক্ষেপ নিতে চায়, তবে এটি তাদের প্রথম লক্ষ্য হতে পারে। উয়েফা আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে কোনো প্রার্থী দাঁড় করাতে পারে, কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলোর হাতে রয়েছে মাত্র ৫৫টি ভোট। তাই তাদের জেতার সম্ভাবনা খুবই কম।
চেফেরিন এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা যদি সত্যিই ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনার বিপক্ষে শক্ত লড়াই করতে চান, তবে তাদের খুব দ্রুতই বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে আপাতত, ইনফান্তিনো তার সিদ্ধান্ত নিয়ে যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি অটল ও আত্মবিশ্বাসী।







