আসিয়ান কাপে জয়ের কোনো আশাই দেখছেন না থমাস ডুলি

আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ও ঘরের মাঠে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে নিজেদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে চান বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ থমাস ডুলি। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সমর্থকদের স্বপ্ন দেখার অধিকার থাকলেও পা মাটিতে রাখতে হবে।
আজ থেকে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা আসিয়ান কাপ। ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই ইন্দোনেশিয়ায় চলে গেছে বাংলাদেশ। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ কোচ জানান, মূলত ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে টুর্নামেন্ট খেলার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। আগামী নভেম্বরে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠেয় সাফ টুর্নামেন্টের আগে এই ম্যাচগুলোকে সেরা প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে অতীতের স্মৃতিচারণ করে থমাস ডুলি বলেন, ‘আমি আমার অধিনায়কের সাথে প্রায় ৮ বছর আগের ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলা ম্যাচটি নিয়ে কথা বলছিলাম। আমরা সেবার ইন্দোনেশিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিলাম। আমরা মাঠের প্রায় প্রতিটি অংশেই আধিপত্য বিস্তার করেছিলাম...। কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। প্রথমত এটি বাংলাদেশের জন্য নয়, ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান খেলোয়াড়দের মান ও দক্ষতার উন্নতির কারণেই এমনটি হয়েছে।’
বর্তমান ইন্দোনেশিয়া দলের শক্তি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘এশিয়ার বেশিরভাগ দলের জন্যই ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলা এখন বেশ কঠিন। কারণ তাদের দলে জার্মান বুন্দেসলিগা, নেদারল্যান্ডস ও ইতালির লিগে খেলা কিছু খেলোয়াড় আছে। আমার যখন খেলেছিলাম, তখনকার তুলনায় একদম ভিন্ন একটি দল। তাই আমার মনে হয় না, আমাদের তেমন কোনো সুযোগ আছে। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি জানি বাংলাদেশের অনেক ভক্ত ভাবেন যে আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেব। কিন্তু এটা অনেক কঠিন।’
টুর্নামেন্টে ডিভিশন-১-এর ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। টমাস ডুলি মালয়েশিয়ার সঙ্গে শক্তির পার্থক্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘র্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া (১৩৬) আমাদের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ধাপ এগিয়ে। এটি বেশ বড় ব্যবধান। সিঙ্গাপুর (১৪৬) আমাদের (বাংলাদেশ ১৮১) চেয়ে ৩০-৩৫ ধাপ এগিয়ে, আর এরপর আছে ইন্দোনেশিয়া। আমরা জানি এই টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অতীতের লড়াইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এর আগের দুটি ম্যাচে ১-০ ও ২-১ গোলে হেরে গেলেও বাংলাদেশ জয়ের খুব কাছাকাছি ছিল। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আরও কঠিন হবে উল্লেখ করে কোচ বলেন, ‘ভালো ফল করা, যেমন ১-০ গোলে হারা বা ড্র করতে পারাটা আমাদের জন্য সাফল্য হবে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের উন্নতির পথ।’
ফুটবলে রাতারাতি অলৌকিক কিছু ঘটে না উল্লেখ করে থমাস ডুলি বলেন, ‘এমন কোনো ওষুধ নেই যা খেলে হঠাৎ আপনি ১০০% ফিট হয়ে যাবেন বা ফুটবল বুঝে যাবেন। কেন আমরা ১৮১ নম্বরে আর অন্য দলগুলো ১৫০, ১৩০ বা ১০০-র নিচে? আমরা সেটাই বোঝার চেষ্টা করছি যে কীভাবে সেই পর্যায়ে পৌঁছানো যায়, আর তা কেবল ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমেই সম্ভব। মালয়েশিয়াও ঠিক আমাদের মতোই চিন্তা করে। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সময় আমরা যেমন ভুটানের বিরুদ্ধে হারতে চাই না, মালয়েশিয়াও ঠিক একইভাবে আমাদের কাছে হারতে চায় না।’
সবশেষে আশাবাদ ব্যক্ত করে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সাথে একটি ভালো ম্যাচ হলে, আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে সুযোগ তৈরি করে ড্র করতে পারলে বা একটা জয় পেলে দারুণ হবে। জয় পাওয়াটা হবে চমৎকার ব্যাপার, তবে স্বপ্ন দেখার অধিকার তো সবারই আছে, তাই না?’






