এমি মার্তিনেস
প্রতি রাতে কেঁদেছি, আঙুলটা আর কখনো সোজা হবে না

গত মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালে আঙুল ভেঙে গিয়েছিল আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের। তবে সেই ভাঙা আঙুল নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলে গেছেন। সম্প্রতি সাংবাদিক গ্যাস্তোন এদুলকে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক জানান, সেই আঘাতের যন্ত্রণা তাকে কতটা কাঁদিয়েছে এবং এখনো কীভাবে সেই ক্ষত বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন।
অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ফ্রেইবার্গের বিপক্ষে ইউরোপা লিগ ফাইনাল জয়ের ম্যাচটিতে এমির ডান হাতের আঙুল ভেঙে গিয়েছিল। এক্স-রে রিপোর্ট হাতে পেয়ে বিশ্বকাপ মিস করার শঙ্কায় ভেঙে পড়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে এমি মার্তিনেস বলেন, ‘ডাক্তার যখন আমাকে এক্স-রে রিপোর্ট দেখালেন, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। ভেবেছিলাম বিশ্বকাপ শেষ! এরপরের প্রতিটি রাতে আমি কেঁদেছি। আঙুলটা ফুলে একেবারে সসেজের মতো হয়ে গিয়েছিল।’ এই কঠিন সময়ে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার এমির পাশে দাঁড়ান আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। মার্তিনেস জানান, ‘স্কালোনি আমাকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। আমি খেলি বা না খেলি, তিনি আমার পাশে আছেন এবং আমাকে দলে যোগ দিতে বলেন। অস্ত্রোপচার করা মানেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া, তাই আমরা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি।’ বিশ্বকাপের আগে গ্লাভস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস মার্তিনেসের জন্য বিশেষ গ্লাভস তৈরি করে দেয়। তবে সেই গ্লাভস পরে বলের ওপর সঠিক গ্রিপ বা নিয়ন্ত্রণ পাওয়া অসম্ভব ছিল। আলজেরিয়া ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এমি বলেন, ‘আমি এক হাত দিয়ে ডাইভ দিচ্ছিলাম... একদম ভুতের মতো দেখাচ্ছিল আমাকে! আমি হাতের মাত্র চারটি আঙুল অনুভব করতে পারছিলাম।’
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে রানার্সআপ হয়ে আসর শেষ করে। বিশ্বকাপের পর আবারও এক্স-রে করানো হলে দেখা যায় আঙুলের হাড় দুই টুকরো হয়েই রয়েছে। এই আঙুলের ইনজুরির কারণে জুভেন্তাসে তার একটি সম্ভাব্য ট্রান্সফারও বাতিল হয়ে যায়। তবে গ্রীষ্মের দলবদলে চেলসি তাকে ৭.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে সই করায়। বর্তমানে চেলসির এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে ৬টি ম্যাচ খেলার পর গত ১৭ অক্টোবর এভারটনের বিপক্ষে চোয়াল ভেঙে মাঠের বাইরে ছিটকে যান মার্তিনেস। সফল অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে পুনর্বাসনে আছেন তিনি। চেলসিতে যোগদান প্রসঙ্গে এমি বলেন, ‘জুভেন্তাসে এক্স-রে রিপোর্ট দেখার পর যখন চিকিৎসকরা অপারেশনের কথা বললেন, তখন চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। তবে চেলসির এতে কোনো আপত্তি ছিল না।’
সাক্ষাৎকারে এমি মার্তিনেস হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার আঙুলটা আর কোনোদিন আগের অবস্থায় ফিরবে না। জীবনের বাকিটা সময় এটি এমনই থাকবে। আমি আজও তীব্র ব্যথা নিয়েই খেলা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই একটা অস্ত্রোপচার করাতে হবে। জাতীয় দলের জন্য খেলতে গেলে এটুকু ঝুঁকি তো নিতেই হয়। সুযোগ পেলে আমি আবারও ঠিক একই কাজ করব!’








