ব্যালন ডি’অর
যে কারণে মেসিকে ভোট দেননি মিসরীয় সাংবাদিক

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে রানার্সআপ করলেও ব্যালন ডি’অর হাতছাড়া হয়েছে লিওনেল মেসির। ভোটের লড়াইয়ে সেরা তিনেও তার জায়গায় হয়নি। পাঁচ নম্বরে থেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকরকে। এদিকে মিসরীয় সাংবাদিক আমর নাগিব ফাহমি জানিয়েছেন, তিনি মেসিকে ভোট দেননি। এর পেছনের কারণও তিনি ব্যখ্যা করেছেন।
ব্যালন ডি’অরের ভোট গণনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই এক্স প্ল্যাটফর্মে বিতর্ক শুরু হয়। মাহমুদ আবদুল রহমান নামের এক ফুটবলপ্রেমী ফাহমিকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি তার পছন্দক্রমের শীর্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে, খভিচা কোভারাতসখেলিয়া ও লামিন ইয়ামালকে রাখলেও মেসিকে তালিকায় স্থান দেননি? ফাহমির জবাব শুনলে মেসিভক্তরা নিশ্চয়ই চোখ কপালে তুলবেন।
মিসরীয় এই ধারাভাষ্যকার ও সাংবাদিকের মতে, ‘আমার তালিকা থেকে মেসিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি ফ্রান্স ফুটবলের নির্ধারিত তৃতীয় মানদণ্ড—ফেয়ার প্লে বা খেলোয়াড়ি শৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত। মেসি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও তার কিছু সতীর্থের—বিশেষ করে এনজো ফার্নান্দেস এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ক্ষতিকর ও আক্রমণাত্মক খেলার ধরন থামাতে কখনোই কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।’
ফাহমি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ ফাইনালের সময় স্প্যানিশ লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়ার সঙ্গে মেসির ঘটনাটিও তার চোখে খেলাধুলার সুনির্দিষ্ট আচরণবিধির পরিপন্থী ছিল। তিনি বলেন, মেসির এই আচরণগুলো আন্তর্জাতিক মানের ‘ফেয়ার প্লে’ নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সমালোচকরা ফাহমিকে মনে করিয়ে দেন যে ব্যালন ডি’অরের নিয়মে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় ট্রফি এবং অর্জনের পরেই আসে ফেয়ার প্লে।
এরপরও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে ফাহমি ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের জিনেদিন জিদানের সেই লাল কার্ড এবং মাতেরাজ্জিকে দেওয়ার হেডবাটের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত, যা সঠিক বা ভুল দুটিই হতে পারে। সব সিদ্ধান্ত যদি কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে নির্ধারিত হতো, তবে তো ভোটদাতাদের কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। ২০০৬ সালে জিদানের সেই একটি ভুল সিদ্ধান্ত যেমন তার ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা কেড়ে নিয়েছিল, এখানেও বিষয়টি তেমনি। আমি কোনো আবেগ দিয়ে চালিত হইনি।’
সব সাংবাদিক অবশ্য মেসির বিপক্ষে ছিলেন না। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, বেলারুশ, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পানামার মোট ছয় প্রতিনিধি মেসিকেই তাদের প্রথম পছন্দের স্থানটি দিয়েছিলেন। আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী লিওনেল মেসি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। ক্লাব ফুটবলে খেলে যাচ্ছেন ইন্টার মায়ামির হয়ে। আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর জিতে নিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন।





