ঢাকা সাফ
হামজা-আব্দুল্লাহর সম্ভাব্য লড়াইটা হচ্ছে না
- গত মাসে উয়েফা কনফারেন্স লিগে অভিষেক হয়েছে আব্দুল্লাহ ইকবালের
- হামজা চৌধুরীর ইউরোপা লিগ ও কনফারেন্স খেলার অভিজ্ঞতা আছে
- সাফে তাদের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল

আব্দুল্লাহ ইকবাল সাফ ফুটবল খেলতে এলে কী কী হতো? সদ্য উয়েফার টুর্নামেন্টে নাম লেখানো আবদুল্লাহর খেলা দেখার সুযোগ হতো ঢাকা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। আছে উয়েফার বিভিন্ন লিগে খেলা আরেক ফুটবলার হামজা চৌধুরী। এ দুজনের সম্ভাব্য লড়াইও হতে পারতো সেমিফাইনাল বা ফাইনালে। দুই টপ ফুটবলারের মধ্যে তুলনা হতে পারতো। নিঃসন্দেহে তাদের উপস্থিতিতে মান বাড়তো এই ঢাকার টুর্নামেন্টের।
আব্দুল্লাহ ইকবাল পাকিস্তান ফুটবল দলের নিয়মিত অধিনায়ক। সুইডেনের শীর্ষ লিগে খেলা পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত এই ফুটবলার ঢাকা আসছেন না। অর্থাৎ পাকিস্তান দলে নেই। তাকে ছাড়ছে না সুইডিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন ক্লাব মেইলবি এআইএফ। সাফ ফুটবল ফিফার টুর্নামেন্ট নয়; তাই ফিফা উইন্ডোতে সব খেলা হলেও খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয় ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো।
আব্দুল্লাহকে না ছাড়ার কারণ- গত মৌসুমে প্রথম সুইডিশ লিগজয়ী ক্লাব মেইলবির রক্ষণভাগে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠছেন তিনি। তার জন্ম ডেনমার্কে; ফুটবলের হাতেখাড়িও সেখানে। ২০২৪ সালে ডেনিশ ক্লাব ছড়ে খেলতে যান সুইডেনের মেইলবিতে। কিন্তু প্রথম একাদশে জায়গা হচ্ছিল না কিছুতেই। দুই সেন্টারব্যাকের একজন ইনজুরড ও অন্যজন সাসপেশনে পড়লে খুলে যায় তার ভাগ্য। প্রথম সুযোগেই তার পারফরম্যান্সে দ্বিধা কাটে কোচের; এরপর থেকেই একাদশে তার নিয়মিত উপস্থিতি।
এই পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ফুটবলারের গত মাসে উয়েফা কনফারেন্স লিগে অভিষেক হয়েছে মেইলবি এআইএফের হয়ে। গত ১৫ অক্টোবর এন্ডোরার ইন্টার ক্লাব ডি’এস্কালদেসের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে তার ক্লাব জিতেছে ২-০ গোলে যেখানে একটি অ্যাসিস্ট আছে আব্দুল্লাহর। তার আগে এই ক্লাবের হয়ে খেলেছেন চ্যাম্পয়নস লিগের কোয়ালিফাইং রাউন্ড। স্বাভাবিকভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে ফিফা উইন্ডোতে ছাড়তে চাইবে না মেইলবি।
হামজা চৌধুরীকে যেমন বাংলাদেশ পাচ্ছে না প্রথম ম্যাচে। খেলা আছে তার ক্লাব শেফিল্ড উইনাইটেডের। তাই ভুটান ম্যাচের পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই ফুটবলারকে। যখন প্রিমিয়ার লিগে লিস্টার সিটিতে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছিলেন তখন অনেক চেষ্টা করেও হামজাকে বাংলাদেশ দলে নাম লেখানো যায়নি। স্বাভাবিকভাবে তার স্বপ্ন জুড়ে ছিল ইংল্যান্ড জাতীয় দল। তবে ২০২২ সালে এক ধাপ নীচে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ওয়াটফোর্ড এফসিতে খেলার সময়ও তাকে এইমুখো করা যায়নি।
মাত্র এক বছর আগে তার মন ফিরে বাংলাদেশের দিকে, সেরা সময়টা পেরিয়ে গেলেও ২৯ বছর বয়সী হামজা কম কীসে! র্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকা বাংলাদেশ ফুটবলের চরিত্র বদলের জন্য যেন এই যথেষ্ট। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ইউরোপা লিগে ৯ ম্যাচ ও কনফারেন্স লিগে ৩ ম্যাচ খেলা ফুটবলারটিই রাতারাতি হয়ে ওঠেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। তাকে দেখে অনেক বাংশোদ্ভুত ফুটবলার আগ্রহী হয় লাল-সবুজ জার্সিতে। নামে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও পার্থক্য গড়ে দেওয়ার আসল কারিগর তিনি। ১৩ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৪টি, অ্যাসিস্ট একটি। এসব পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় ব্যাপার হলো, হামজা দেশের মানুষকে নিয়ে গেছেন ফুটবল ফ্যান্টাসির জগতে। দর্শক-সমর্থকদের মনে ফের ঝিলিক দিচ্ছে নতুন ভোরের স্বপ্ন।
পকিস্তনের ফুটবলে ঠিক তেমনই এক চরিত্র আব্দুল্লাহ ইকবাল। ওখানেও বংশোদ্ভুত ফুটবলারের মেলা, তার মধ্যেও আলাদা ডিফেন্ডার আবদুল্লাহ। তার বয়স মাত্র ২৪, কিন্তু দুই বছর আগে তার হাতে দলের নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড দিয়ে গেছেন পাকিস্তানের সাবেক ইংলিশ কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটিন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার খেলার দক্ষতা বেড়েছে, ডিফেন্সিভ টেকনিকের উন্নতি হয়েছে। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে তিনি এরিয়েল বলে অপ্রতিরোধ্য; এছাড়া পেছনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আব্দুল্লাহকে আলাদা করে চিনিয়েছে।
তার নেতৃত্বে পাকিস্তান ৭৪ বছর পর কোনো ট্রফি জিতেছে। গত জুনে মালদ্বীপে ডায়মন্ড জুবিলি ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট জিতে আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, ‘ট্রফি জয়ী অধিনায়ক হিসেবে আমার খুব ভালো লাগছে। আমরা কঠিন সময় পার করে এসেছি। আশা করি, সামনে আরো সুন্দর মুহূর্ত অপেক্ষা করছে।’
সামনে ঢাকা সাফও রাঙাতে পারে তার দল। তবে পাকিস্তান মিস করবে আব্দুল্লাহ ইকবাল নামের ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার প্রাচীরকে। আর দর্শকরা মিস করবে উয়েফা টুর্নামেন্ট খেলা এক ফুটবলারকে।






