গুরুর নির্দেশ
করোনার সময় গলফ খেলেই বদলে যান অভিষেক

গুরু-শিষ্য যুবরাজ সিং আর অভিষেক শর্মা।
ভারতের মারকুটে ওপেনার অভিষেক শর্মার মাঝে নেতৃত্বগুণ আর ভবিষ্যৎ ওয়ানডে তারকাকে দেখছেন বিশ্বকাপজয়ী অল-রাউন্ডার যুবরাজ সিং। কোভিড মহামারীর সময় গলফ খেলার মাধ্যমে অভিষেকের সঙ্গে যুবরাজের যে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, সেটাই এখন তার ব্যাটিং সুইং, একাগ্রতা ও মনস্তাত্ত্বিক শক্তিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
‘ক্রিকবাজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের শিষ্য অভিষেককে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন যুবরাজ। করোনা মহামারীর সময় তিনি তরুণ অভিষেককে প্রথমে গলফ খেলার প্রতি উৎসাহিত করেন। এরপর চণ্ডীগড়, নয়াদিল্লি থেকে শুরু করে ইতালির সার্দিনিয়া কিংবা মরক্কোর মারাকেশের চোখধাঁধানো গলফ কোর্সে দুজনকে সময় কাটাতে দেখা গেছে। যুবরাজের মতে, গলফ ব্যাটারের শট নির্বাচন ও ব্যাটের সুইং বাড়াতে ব্যাপক সাহায্য করে। এ বিষয়ে যুবরাজ সিং বলেন, ‘ফুটবল বা ক্রিকেট থেকে খানিকটা মানসিক রিফ্রেশমেন্ট পেতেই ওকে গলফের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম।’
সাবেক ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার কিরণ মোরে ব্যাখ্যার করে বলেন, ‘গলফ খেলা ব্যাটের সুইং এবং মাথার পজিশন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। অভিষেকের ক্ষেত্রে তার বাঁ হাতের ওপরের অংশের বিস্তার ভালোভাবে হয়, যা শটের সুইং বাড়ায়। এটি টেম্পারামেন্ট গড়তেও সাহায্য করে। ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া ও মনোযোগ ধরে রাখার চর্চাটা ক্রিকেটেও সমান ভূমিকা রাখে।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সম্প্রতি ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বিস্ফোরক সেঞ্চুরি করেন অভিষেক। তার সঙ্গী তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী করেন ১৯ বলে ৪৫ রান। এ ম্যাচে বৈভবকে আগলে রেখে ব্যাটিং করার ধরন নজর কেড়েছে সবার। অভিষেকের এই মানসিকতা নিয়ে যুবরাজ বলেন, ‘ও অধিনায়ক হতে পারবে কি না সেটা এখনই বলা কঠিন। তবে আমি মনে করি ওর মধ্যে নেতৃত্বগুণ আছে। পাঞ্জাব প্রাদেশিক দলে সে তরুণ ক্রিকেটারদের যেভাবে উৎসাহ দেয়, তা দুর্দান্ত। সূর্যবংশীর কাঁধে হাত রেখে যেভাবে ও মোটিভেট করে, সেটা সিনিয়র লিডারের একটি দারুণ লক্ষণ। ভবিষ্যতে ভারতকে নেতৃত্ব দিতে চাইলে আগে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দেওয়া দরকার, যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সময়ই বলে দেবে ও কতটা পারবে। ভাগ্যে থাকলে সুযোগ নিশ্চয়ই আসবে। আর না এলেও সমস্যা নেই—অধিনায়ক হোক বা না হোক, ও সাদা বলের একজন গ্রেট প্লেয়ার হিসেবেই ক্যারিয়ার শেষ করবে।’ ইতোমধ্যে ভারতের জাতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরও অভিষেককে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সুযোগ দিতে আগ্রহী বলে জানা যাচ্ছে। নির্বাচক এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে যুবরাজের স্পষ্ট কথা, ‘অভিষেক ৩৫, ১০০ নাকি ৩১, ১০০ করল—সেটি বড় কথা নয়; মূল কথা হলো ও দীর্ঘদিন ধরে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে দারুণ ধারাবাহিক। ওয়ানডে দলে ঢুকতে আর কী করতে হবে, আমার জানা নেই। হয়তো বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে আরও কিছুটা অবদান রাখা দরকার, তবে সেটি তো সুযোগ পাওয়ার পরেই প্রমাণিত হবে। উন্নতির জায়গা সবসময়ই থাকে। কিন্তু সুযোগ না দিলে একজন ক্রিকেটার কোথায় নিজের প্রতিভা দেখাবে?’






