মারাকানার সেই সিঁড়ির গল্প শোনালেন নেইমার

মারাকানা স্টেডিয়ামের সিঁড়িতে বসে মেসি-নেইমারদের আড্ডার এই ছবি ভাইরাল হয়েছিল।
খেলার মাঠের চিরবৈরী প্রতিপক্ষ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দুই সুপারস্টার লিওনেল মেসি আর নেইমারের বন্ধুত্বের কথা সবার জানা। মাঠের উত্তেজনা ছাপিয়ে তাদের বন্ধুত্ব টিকে রয়েছে বছরের পর বছর। ২০২১ সালে মারাকানায় কোপা আমেরিকার সেই অগ্নিগর্ভ ফাইনালে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের পর ভাইরাল হয়েছিল মেসি-নেইমারের একটি ছবি।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ঘরের মাঠে ফাইনাল হার সহজ কোনো বিষয় নয়। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকেরা তেতে ছিলেন। মাঠের সেই তুমুল লড়াই, নেইমারের কান্না আর মেসিদের উল্লাসের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে দেখা গিয়েছিল, মারাকানার সিঁড়িতে বসে একদম হালকা মেজাজে আড্ডা দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস।
সেই ঐতিহাসিক ফাইনালের পাঁচ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে কনমেবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তটি নিয়ে মুখ খুলেছেন নেইমার। বর্তমানে সান্তোসে খেলা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, হারের তীব্র কষ্টের মাঝেও কীভাবে সেই আড্ডা তাকে এক গভীর জীবনবোধের শিক্ষা দিয়েছিল।
মারাকানার সেই বিখ্যাত ছবিটির দিকে তাকালে এখনো নেইমারের মনে দুটি ভিন্ন অনুভূতির জন্ম হয়। সান্তোস তারকা বলেন, ‘যখনই আমি এই ছবিটা দেখি, আমার মনে দুটি ভিন্ন অনুভূতি কাজ করে। প্রথমটা অবশ্যই খারাপ, কারণ ওটা একটা ফাইনাল ছিল এবং আমরা আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিলাম। আর দ্বিতীয় অনুভূতিটা হলো, ফুটবল আসলে শুধু মাঠের ওই ৯০ মিনিটের খেলার চেয়েও অনেক বড় কিছু।’
নেইমার জানান, ম্যাচ শেষের সেই আড্ডাটা কোনো পূর্বপরিকল্পিত বিষয় ছিল না। সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তারা সেখানে বসেছিলেন। নেইমারের ভাষায়, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি কেঁদেছিলাম, ভীষণ মন খারাপ ছিল। এরপর স্টেডিয়ামের সিঁড়িতে ওদের (মেসি ও পারেদেস) সাথে দেখা হয়ে গেল। আমরা পিএসজিতে আমাদের দিনগুলো, প্যানডেমিক পরিস্থিতি নিয়ে গল্প করতে লাগলাম। ওটা ছিল চারপাশের এত বড় একটা হাহাকার আর বিশৃঙ্খলার মাঝে খুঁজে পাওয়া একটুখানি সুখ।’
জাতীয় দলের জার্সি বা দেশের সীমানা যে ফুটবলারদের ভেতরের মানুষটাকে আলাদা করতে পারে না, সেটি মনে করিয়ে নেইমার বলেন, ‘আপনি যে দলের জার্সিতেই খেলুন না কেন, কিংবা যে দেশেরই হোন না কেন, দিনশেষে সবাই আমরা মানুষ। সবার আবেগ আছে, আনন্দ আছে এবং আমরা একে অপরের বন্ধু।’
নেইমারই এক্স-ফ্যাক্টর
২০ মে ২০২৬
সাবেক পিএসজি ও বার্সেলোনা সতীর্থ লিওনেল মেসিকে প্রশংসায় ভাসিয়ে নেইমার যোগ করেন, ‘মেসি ফুটবলের এক নম্বর তারকা। এই ছবিটা আসলে দেখায় যে, দুজন মানুষ ফাইনালে শিরোপার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছে এবং ম্যাচ শেষে দুজনেই একটু আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছে, হোক সে বিজয়ী হোক কিংবা পরাজিত। আমাদের এই বন্ধুত্বের মূল্য অনেক। পারেদেস এবং মেসি মাঠের বাইরে অসাধারণ মানুষ, যদিও মাঠের ভেতরে তারা ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।’
কোপা আমেরিকার সেই ফাইনাল ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বড় কোনো ট্রফি। অন্যদিকে, নেইমারের জন্য সেটি ছিল ঘরের মাঠে ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্নভঙ্গ। সামনেই ২০২৬ বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। তার আগে এই গল্প শুনিয়ে নেইমার যেন মনে করিয়ে দিলেন, মাঠের লড়াইয়র চেয়ে মানবিক সম্পর্কগুলো কতটা মূল্যবান।







