লড়াকু তপু ক্রাইসিস ম্যানও
- বর্তমান জাতীয় দলের সর্বোচ্চ ৮ গোল তপুর
- তার গোল পাওয়া ম্যাচে হারেনি বাংলাদেশ

দলে নাম্বার নাইনের সংকট অনেক দিনের। স্ট্রাইকার নেই, তথাকথিত ফরোয়ার্ডরাও গোল পান কালেভদ্রে। এই না পাওয়ার মাঝে বাংলাদেশ দলে আছেন একজন ‘ক্রাইসিস ম্যান’ তপু বর্মণ। ঘর আগলে রাখা যার প্রধান দায়িত্ব হলেও গোলের দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা তাকে বসিয়েছে সেরার আসনে। পুরোদস্তুর সেন্টারব্যাক হয়েও বর্তমান জাতীয় দলের সবচেয়ে বেশি ৮ গোলের মালিক! তপু যখনই গোল করেন, তখন দল হয় জেতে, না হয় গুরুত্বপূর্ণ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে। দলের বিপদে বারবার পথ দেখানো তপুর জোড়া গোলে শুক্রবার ইউরোপ জয় করেছে বাংলাদেশ। সান মারিনোর মাঠে ২-১ ব্যবধানের স্মরণীয় জয়ে বাংলাদেশের দুটি গোলই তপু করেছেন হেডে ।
কেন তপু ক্রাইসিসম্যান?
‘স্কোরার’ তপুর দেখা মেলে ২০১৫ কেরালা সাফের শেষ গ্রুপ ম্যাচে। আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে বাংলাদেশ ভুটানকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। তপু করেন প্রথম গোল, খোলেন নিজের গোলের খাতা। তিন বছর পর ঘরের মাঠে পরের সাফে গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে একটি করে গোল করেন তপু।
২০২১ সালে তপু আবার ত্রাতার ভূমিকায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে। দোহায় সে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে চোখ ধাঁধানো গোলে বাংলাদেশকে এনে দেন ১ পয়েন্ট। সে বছর আরও দুই গোল করেছেন। মালদ্বীপে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর শ্রীলঙ্কায় চার জাতি আসরে মালদ্বীপকে ২-১-এ হারানোর ম্যাচেও জয়ের নায়ক। এরপর পাঁচ বছরের অপেক্ষা শেষ হয় শুক্রবার সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্সে।
টার্গেটম্যান কী করে?
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তপু দীর্ঘদিন ছিলেন সৈয়দ গোলাম জিলানীর অধীনে। বসুন্ধরা কিংসের সহকারী কোচ হিসেবে কয়েক বছর ধরেই তপুকে দেখছেন। দুই কালের দুই অভিজ্ঞতা থেকে জিলানী প্রশংসায় ভাসালেন প্রিয় শিষ্যকে, ‘তার গোল করার ক্ষুধা ছোটবেলা থেকেই। সেট পিস পেলেই ও চলে যেত। উচ্চতা তো ছিলই, গোলের তীব্র ইচ্ছার কারণে আমরাও তাকে বক্সে যেতে বলতাম। এভাবেই সে টার্গেটম্যানে পরিণত হয় সতীর্থদের।’
সত্যিকারের যোদ্ধা
দীর্ঘসময় তপুর সঙ্গে খেলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। কাছ থেকে দেখার সুবাদে মামুনুলের কাছে তপু সত্যিকারের এক যোদ্ধা, ‘সে ভীষণ পরিশ্রমী, একজন সত্যিকারের যোদ্ধা। টিমমেট হিসেবে দুর্দান্ত। সে যে ফাইটার, তার বড় প্রমাণ কালকের (শুক্রবারের) ম্যাচ। প্রথমে গোল করল। এরপর তার কারণে দল গোল খেল। সেখানে অন্যরা ভেঙে পড়ত। সে যোদ্ধা বলেই চেষ্টা করে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়েছে।’
সের্হিয়ো রামোসের পথে হেঁটেই সফল
তপু নিজেকে স্প্যানিয়ার্ড কিংবদন্তি সের্হিয়ো রামোসের অনুসারী দাবি করেন অনেক দিন ধরেই। শুধু গোল করার ক্ষমতা নয়, রামোসের নেতৃত্ব তাকে ভীষণভাবে টানে। সান মারিনো থেকে মোবাইল ফোনে তপু বলেছেন, ‘রামোস আমার অনেক পছন্দের। শুধু গোল করার জন্য নয়। তার নেতৃত্ব, সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করা— এ ব্যাপারগুলো সব সময় অনুসরণ করি।’
বাংলাদেশের জার্সিতে ডিফেন্ডারদের গোল করার ঘটনা খুব বেশি নেই। ছয় গোল করে একটা সময় এগিয়ে ছিলেন কায়সার হামিদ। এখন তপু এগিয়ে গেছেন অনেকটা। বর্তমান দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেও তিনি থাকতে চান বিনয়ী, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হয়তো কিছু গোল করেছি। তবে গোল করার চেয়ে দলের জয়টাই গুরুত্বপূর্ণ।’
লড়াকু মানসিকতা, দলের বিপদে জ্বলে ওঠা, সতীর্থদের সঙ্গে সৌহার্দ্য আর বিনয়— এসবের মিথস্ক্রিয়ায় বাংলাদেশের রামোস হয়ে উঠেছেন তপু।
তপুর যত গোল
|
তারিখ |
প্রতিপক্ষ |
গোল |
দলের ফল |
আসর |
|
২৮ ডিসেম্বর ২০১৫ |
ভুটান |
১ |
৩-০ জয় |
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ |
|
৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ |
ভুটান |
১ |
২-০ জয় |
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ |
|
৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ |
পাকিস্তান |
১ |
১-০ জয় |
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ |
|
৩ জুন ২০২১ |
আফগানিস্তান | ১ |
১-১ ড্র |
বিশ্বকাপ বাছাই |
|
১ অক্টোবর ২০২১ |
শ্রীলঙ্কা |
১ |
১-০ জয় |
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ |
|
১৩ নভেম্বর ২০২১ |
মালদ্বীপ |
১ |
২-১ জয় |
শ্রীলঙ্কা চার জাতি টুর্নামেন্ট |
|
৫ জুন ২০২৬ |
সান মারিনো |
২ |
২-১ জয় |
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ |




