যশোর
ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে বাড়ছে তিল চাষ

ছবি: আগামীর সময়
ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে যশোরে বাড়ছে তিলের আবাদ। একসময় প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যাওয়া এ ফসল এখন আবার উঠে এসেছে কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রে। উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার, সরকারি প্রণোদনা এবং ভোজ্য তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারিত হচ্ছে তিল চাষ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, ২০২৬-২৭ মৌসুমে যশোর জেলার আট উপজেলায় মোট এক হাজার ৫৫৪ হেক্টর জমিতে হয়েছে তিলের আবাদ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৮৬ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে শার্শায়। এছাড়া ঝিকরগাছায় ২৮৫ হেক্টর, চৌগাছায় ২৩৫ হেক্টর, যশোর সদরে ১৮০ হেক্টর, মনিরামপুরে ১১৫ হেক্টর, বাঘারপাড়ায় ১০০ হেক্টর, কেশবপুরে ৩২ হেক্টর এবং অভয়নগরে ১৫ হেক্টর জমিতে হয়েছে তিলের আবাদ।
কৃষকদের ভাষ্য, দেশি জাতের তিলে ফলন ও লাভ কম হওয়ায় একসময় অনেকেই ছেড়ে দিয়েছিলেন এ ফসলের আবাদ। তবে উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় আবারও আগ্রহ বেড়েছে তিল চাষে। চলতি মৌসুমে খরিপ-১, টি-৬ ও বারি তিল-৪ জাতের তিলের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলনও হয়েছে ভালো।
কেশবপুর উপজেলার চাদড়া গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিল থেকে পাওয়া যায় ভোজ্য তেল ও খৈল। এ ফসলে রোগবালাই কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম। তার ভাষ্য, এ বছর ভালো ফলন হয়েছে তিল ও সরিষার। এতে পরিবারের সারা বছরের তেলের চাহিদা পূরণ হবে।
একই উপজেলার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেছেন, কৃষি কর্মকর্তাদের উৎসাহ ও প্রণোদনা পেয়ে ২০ শতক জমিতে তিল চাষ করেছেন তিনি। বিঘাপ্রতি বীজ ও সার সহায়তা পাওয়ায় বেড়েছে চাষের উৎসাহ। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় আগামী মৌসুমে তিল আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন অন্য কৃষকরাও।
কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, কৃষি বিভাগের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে হয়েছে ভালো ফলন। কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কৃষিবিদ মনিরুল ইসলামের ভাষ্য, তিল শুধু লাভজনক ফসলই নয়, এটি মাটির উর্বরতাও বৃদ্ধি করে। তিল গাছের পাতা পচে সবুজ সারের কাজ করে, ফলে জমির জৈবগুণ বাড়ে। একই জমিতে কয়েক বছর তিল চাষ করলে রাসায়নিক সারের প্রয়োজনও কমে যায়।
তিনি জানিয়েছেন, দো-আঁশ ও অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে তিল ভালো জন্মে এবং সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি হেক্টরে দেড় মেট্রিক টনের বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সমরেন বিশ্বাস বলেছেন, ভোজ্য তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সরিষার পাশাপাশি তিলের আবাদ বাড়ানোর। তিনি জানিয়েছেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও নিয়মিত তদারকির কারণে এ বছর তিলের আবাদ হয়েছে জেলার আট উপজেলায় এক হাজার ৫৫৪ হেক্টর জমিতে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক।




