শিক্ষক থেকে প্রবাসী, শেষে ঋণের চাপে মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি
আবু ছায়েদ মনু মাষ্টারের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দালালের প্রতারণা, বিদেশের অনিশ্চিত জীবন এবং দেশে ফিরে ঋণের চাপ— সব মিলিয়ে মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত ছিলেন বলে রয়েছে অভিযোগ।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার জগতপুর এলাকার মসজিদ বাড়ির (মোহাব্বত আলী মাষ্টার বাড়ি) বাসিন্দা ছিলেন মনু মাষ্টার। তার স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ১০ বছর সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন আবু ছায়েদ মনু। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চাকরি হারানোর পর আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। সংসারের খরচ জোগাতে প্রায় আট মাস আগে পাড়ি জমান সৌদি আরবে।
অভিযোগ রয়েছে, তাকে বিদেশে ভালো চাকরির আশ্বাস দেন স্থানীয় দরবেশপুর এলাকার মামুন নামের এক দালাল। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দালালের হাতে টাকা তুলে দেন আবু ছায়েদ। তবে সৌদি আরবে পৌঁছে প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি তিনি। মাসের পর মাস অনিশ্চয়তা, অবহেলা ও দুর্বিষহ অবস্থায় কাটাতে হয় দিন।
পরবর্তীতে কোনো উপায় না পেয়ে কোরবানির ঈদের মাত্র দুই দিন আগে দেশে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু দেশে ফিরেও স্বস্তি মেলেনি। ঋণের চাপ ও মানসিক যন্ত্রণা তাকে আরও ভেঙে দেয়। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ৫ জুন (শুক্রবার) মারা যান তিনি।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ঘটনাটিকে মানবপাচার ও দালালচক্রের প্রতারণার ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অনেক।




