নিজ খরচে ফলক পরিষ্কার করেন সোহেল

মাইলফলক পরিষ্কার করছেন সোহেল। ছবি : আগামীর সময়
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সোহেল সময় পেলেই পরিষ্কার করেন যাত্রীছাউনি, সড়কের পাশের ঝোপ-জঙ্গল। ফলক ও সাইনবোর্ড পরিষ্কার করেছেন তিন শতাধিক। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নষ্ট হয়ে যাওয়া নলকূপ মেরামতও করেন তিনি। বিনা পারিশ্রমিকে এবং নিজের টাকা খরচ করে তিনি করে যাচ্ছেন এসব কাজ।
প্রতিদিন যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি সোহেল (৩৫) নিজ উদ্যোগে সড়কের পাশের নামফলক, মাইলফলক ও দিকনির্দেশনা বোর্ড সাবান-পানি দিয়ে ধুয়েমুছে ঝকঝকে করে তোলেন।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের সাতকুচিয়া গ্রামের ডুলু ভূঞা ও নুরনাহার বেগমের ছেলে সোহেল ১৫ বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন অটোরিকশা চালিয়ে। মা-বাবা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার।
সোহেল জানালেন, নতুন এলাকায় যাত্রী নিয়ে গেলে সড়কের পাশের অস্পষ্ট বা ঝোপঝাড়ে ঢাকা নামফলকের কারণে প্রায়ই গন্তব্য চিনতে সমস্যা হতো। বারবার গাড়ি থামিয়ে মানুষের কাছে জানতে গিয়ে সময় ও গ্যাসের অপচয় হতো। এ ভোগান্তি দূর করতেই তিনি পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন নিজ এলাকার সড়কের পাশের ফলক, সাইনবোর্ড ও দিকনির্দেশনা বোর্ডগুলো। এ কাজ তিনি করে যাচ্ছেন প্রায় আড়াই বছর ধরে।
প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অটোরিকশা চালান সোহেল। দুপুরের খাবারের পর থেকে বিকাল পর্যন্ত সময় দেন সেবামূলক এ কাজে। তিনি বাীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের নামফলক, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সাইনবোর্ড, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বিজিবির একাধিক ফলক, যাত্রীছাউনি এবং সড়কের দিকনির্দেশনার সাইনবোর্ড পরিষ্কার করেছেন। শুধু ধুয়েমুছে পরিষ্কার করাই নয়, ঝোপঝাড় ও লতাপাতায় ঢেকে যাওয়া ফলকগুলো দা-কাঁচি দিয়ে কেটে দৃশ্যমান করেন তিনি।
পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল মনি বললেন, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে ফলকগুলো পরিষ্কার করে এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাচ্ছেন। এটি সত্যিই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
অনেক সময় রাস্তার পাশে কাদা-পানি জমে থাকলে তাও পরিষ্কার করেন সোহেল। এ পর্যন্ত ১৮-২০টি নলকূপ তিনি মেরামত ও রঙ করে দিয়েছেন।
পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউপির সদস্য রফিকুল ইসলাম বললেন, সোহেলের কাজে সমাজের মানুষ নানাভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এসব কার্যক্রম দেখে তরুণ সমাজ এগিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
ক্যাপ্টেন লিংক রোডের জামেয়া নুরিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা রফিক উল্যাহ জানালেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের নষ্ট হয়ে যাওয়া নলকূপ সোহেল মেরামত করে দিয়েছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পান করতে পারছে বিশুদ্ধ পানি।
নিজের সামান্য আয় থেকে টাকা খরচ করে এ কাজ করতে কোনো ক্লান্তি নেই সোহেলের। তার কথা, ‘দিনের অর্ধেক আয় দিয়ে আমার সংসার চলে যায়। বাকি সময়টুকু মানুষের উপকারে ব্যয় করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি চাই আমার এলাকার প্রতিটি ফলক যেন পরিষ্কার ও দৃশ্যমান থাকে।’




