বড় বাজারে মন্দা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ১১ মাসে প্রায় সব প্রধান বাজারেই তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে খাতটির আয়ও নিম্নমুখী হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-মে সময়ে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। নিটওয়্যার রপ্তানি ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসী মূল্যনীতির কারণে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি চাপে পড়েছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ইইউতে এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ডলারের পোশাক, যা মোট রপ্তানির ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে এই বাজারে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৮২৫ কোটি ডলার।
দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৭০৩ কোটি ডলার। মোট রপ্তানিতে এ বাজারের অংশ ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এ বাজারে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৭০২ কোটি ডলার।
যুক্তরাজ্যেও নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৪০২ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এ বাজারে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৪০৪ কোটি ডলার।
অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারেও রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এসব বাজারে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৫৬৮ কোটি ডলার, যা ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ কম। মোট রপ্তানিতে এ বাজারগুলোর অংশ ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এ বাজারে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৬০৪ কোটি ডলার।
তবে প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে শুধু কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশটিতে রপ্তানি বেড়ে ১২৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২ দশমিক ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এ বিষয়ে ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বিশ্ববাজারে এখনো ভোক্তা চাহিদা পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ায়নি। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা চাপে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, গ্যাস ও অর্থায়ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাব রপ্তানিতে পড়ছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রধান বাজারগুলোয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি উদ্বেগজনক। এখন বাজার বহুমুখীকরণ, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ ও নীতিগত সহায়তা বাড়ানো জরুরি।’
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের মূল্যচাপ, দীর্ঘ লিড টাইম এবং অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পুনরুদ্ধার ধীর হয়ে পড়েছে। আগামী মাসগুলোয় নতুন ক্রয়াদেশ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও চাপে পড়তে পারে।




