অর্থ উপদেষ্টা
সংকট মোকাবিলায় নতুন মডেল

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, এর লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘চারচা ডটকম’ আয়োজিত ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, সরকারের দর্শন হলো সবার জন্য বাংলাদেশ, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিনিয়োগ বাড়াতে তিতুমীর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দেশীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আসন্ন বাজেটের মূল লক্ষ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। এ লক্ষ্যে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার।
এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাসিম মঞ্জুর বলেছেন, বেসরকারি খাতের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কর কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বর্তমান ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট কর কমিয়ে ভিয়েতনামের মতো ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নীতির অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে। তাই অন্তত তিন বছরের জন্য স্থিতিশীল কর নীতি নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষের নিজস্ব পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে সেবার মান ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা বলেছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেও কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি। তিনি কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বর্তমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানান।
আলোচনায় আরও অংশ নেন সাবেক অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, আইসিএমএবি সভাপতি কাউসার আলম ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। আলোচনা সঞ্চালনা করেন চরচা সম্পাদক সোহরাব হাসান।




