সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগকারী নেতারা
মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ধ্বংস করবে শেয়ারবাজার

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সদ্য বিদায়ি খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন মিউচুয়াল ফান্ড নিয়ে নতুন বিধিমালা জারির মাধ্যমে শেয়ারবাজারকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করেছে। তারা এ খাতের ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল শনিবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
এ অবস্থায় মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা নামের কালো আইন বাতিলের পাশাপাশি মাকসুদ কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগকারী নেতারা জানিয়েছেন, মাকসুদ কমিশন মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন রুলস ও আইপিও নিয়ে কালো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাজারকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। নতুন বিধিমালার আওতায় বিদ্যমান মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে অবসায়ন (লিকুইডেশন) প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হতে পারে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস নামবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আইনে বলা হয়েছে, দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারহোল্ডারের ভোটে ফান্ডগুলোর রূপান্তর বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত হবে। যারা ফান্ড টিকিয়ে রাখার পক্ষে, তাদের জন্য বিকল্প নেই। এতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মতামত অগ্রাহ্য করে ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে।
এই বিপুল মিউচুয়াল ফান্ড পোর্টফোলিও হঠাৎ অবসায়ন বা বাধ্যতামূলক পুনর্গঠনের আওতায় আনলে দুর্বল ক্রয় চাহিদার বাজারে ব্যাপক সরবরাহ সৃষ্টি হবে। এটি শেয়ারদরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। ফলে ডিএইএক্স সূচক ১৫০০ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যেতে পারে এবং লক্ষাধিক বিনিয়োগকারী বাজার ছাড়বে।
মাকসুদ কমিশনের ইচ্ছায় মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ধরনের অবিবেচনা প্রসূত আইন প্রণয়নের ফলে দেশের অর্থনীতিতে বড় আঘাত আসবে।
তাই সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মাসুদ কমিশনের কাছে বিনিয়োগকারীরা এই বিধিমালা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।




