অসংখ্য ভুলের পরও মিলিই বাটলারের সেরা

ফাইনালে ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ছবি: বাফূফে
সাফ শিরোপা হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শনিবার গোয়ায় স্বাগতিক ভারতের কাছে ফাইনালে ৩-১ গোলে হেরেছে তারা। পুরো টুর্নামেন্টে ৯ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। তাতে রক্ষণের যেমন দায় আছে, ব্যর্থ হয়েছেন গোলকিপার মিলি আক্তারও।
অথচ ম্যাচের পর ম্যাচ শেষ দুই সাফের সেরা গোলকিপার রূপনা চাকমাকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছেন কোচ পিটার বাটলার। এশিয়ান কাপ, অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপেও ভুলে মাথা গেঁথেছেন তরুণ মিলি। তারপরও সাফে তাকেই খেলিয়ে গেছেন বাটলার। ফাইনালে হারের পরও মিলিতেই মজে আছেন ব্রিটিশ কোচ। তার দাবি, নিজেকে প্রমাণের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই বেঞ্চে থাকতে হয়েছে রূপনাকে।
এই টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয়বার ভারতের কাছে হারতে হলো বাংলাদেশকে। অথচ ভারতকেই বারবার হারিয়ে শেষ দুই সাফের শিরোপা সমীকরণটা সহজ করেছিল বাংলাদেশ। গ্রুপে ৩-০ হারের পর ফাইনালে ৩-১-এ পরাজয়।
দুই হারের পর একই কথা বলছেন বাটলার। তিনি মনে করেন স্কোরলাইন দিয়ে পারফরম্যান্স বিচার করা ঠিক হবে না, ‘সত্যি বলতে, আমার স্কোরলাইনে খেলাটির সঠিক প্রতিফলন হয়নি এবং আমরা খেলার একটি বড় অংশ জুড়ে তুলনামূলক ভালো দল ছিলাম। মেয়েদের নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত; তারা যেভাবে নিজেদের প্রস্তুত করেছে, যেভাবে মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। আমার মনে হয় প্রথম গোলটি স্রেফ দুর্ভাগ্যবশত হয়ে গেছে। ওটা আটকে দেওয়া যেত। প্রথম গোলটি হজম করার সময়টা খুব খারাপ ছিল ৪২ বা ৪৩ মিনিটে। আর তারপর দ্বিতীয় গোলটি হয়েছে ঠিক বিরতির পর, ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডের মাথায়। মেয়েরা জানে, আমি সবসময় ১৫-২০ মিনিটের ছোট ছোট ব্লকে কাজ করি। তারপর যখন তৃতীয় গোলটি হলো, আমরা তখন আক্রমণ করছিলাম, সুযোগ খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। আমাদের একটি দারুণ সুযোগও ছিল। কিন্তু যা হওয়ার তা তো হয়েছেই এবং দুর্ভাগ্যবশত এটি হতাশাজনক।’
ম্যাচের পর ম্যাচ মিলির করা ভুলগুলো চোখে পড়ছে না বাটলারের, ‘আমি লক্ষ্য করেছি রূপনার হতাশ ছিল, আমি তাকে থাইল্যান্ডে খেলিয়েছিলাম কারণ মিলি ইনজুরিতে ছিল, সে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু সে মুগ্ধ করতে পারেনি। আমি সুযোগ দিয়েছি, সে সুযোগগুলো কাজে লাগায়নি। থাইল্যান্ডে আমি তাকে সুযোগ দিয়েছিলাম যা আপনারা দেখতে পাননি, কারণ ওটা দর্শকহীন ম্যাচ ছিল। তাই, রূপনাকে লড়াই করতে হবে। দীর্ঘ সময় তার জন্য সবকিছু একটু বেশিই সহজ ছিল। আমি কেবল ফর্মের ভিত্তিতেই মানুষ বেছে নিতে পারি। মিলি দুর্দান্ত খেলছে। সে চমৎকার করেছে। সে তরুণ বলেই ভুল করে। তবে সে অসাধারণ ছিল এবং আমি মনে করি সে এই দলে থাকার যোগ্য।'
বাটলার আরও যোগ করেন,‘কেউ তো তখন কিছু বলেনি যখন, রূপনা সপ্তাহের পর সপ্তাহ, বছরের পর বছর, নিয়মিত প্রতিটা ম্যাচ খেলে যাচ্ছিল। আমি পছন্দ করি না মানুষ যখন সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে না পারে। তার প্রতি আমার কোনো সহানুভূতি থাকে না।’
বাটলারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করা ঋতুপর্ণা চাকমাকেও, ‘আমি মনে করি ঋতু একটি দুর্দান্ত গোল করেছে, তবে সে টুর্নামেন্টে তার অবদানের কথা ভেবে কিছুটা অসন্তুষ্ট হবে। আমি ঋতুকে চিনি, সে একটি চমৎকার মেয়ে, আমি মনে করি সে আরও ভালো খেলতে পারে। মনিকা ইনজুরিতে ছিল, তাই তার জন্য বিষয়টি কঠিন ছিল। আমি দুর্বল জায়গাগুলো জানি, অনেক বিষয়ে আমি বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে আমি মনে করি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমি যদি এখানে বসে থাকতাম এবং আমরা বাজে খেলতাম, তবে আমি ভীষণ হতাশ হতাম।’
শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার পরও সামনে তাকাতে বলছেন বাটলার, ‘মেয়েরা যেভাবে খেলেছে, বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের কয়েকজন, তাতে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আনিকা সত্যিই খুব ভালো করেছে। শামসুন্নাহার, তহুরা অনেক পরিশ্রম করেছে। মারিয়া মান্ডা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমাদের এটা নিয়ে খুব বেশি ভেঙে পড়লে চলবে না। এটা একটা শেখার...। আমি সবসময় বলি এটি একটি প্রতিনিয়ত শেখার প্রক্রিয়া।’
দিনের পর দিন পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ কয়েকজন ফুটবলারকে দলের বাইরে রেখে, নবীণদের কাঁধে বড় দায়িত্ব দিয়ে চাপে ফেলে দিয়ে সাফ শিরোপা হাতছাড়ার দায়টা তারপরও এড়াতে পারেন না এই কোচ।




