বাবাকে শেষ বিদায় মেসির

বাবাকে শেষ বিদায় মেসির
খাঁ খাঁ রোদ আর শান্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে ছিলেন একা। দৃষ্টি মাটির দিকে। দুই হাত পকেটে গুঁজে হাঁটছেন সেই পথ ধরে। দুপুরের পরপরই যে গেট দিয়ে এসেছিলেন, সেই পথ ধরেই একটি কালো এসইউভিতে করে বের হয়ে যান লিওনেল মেসি। তার এই একটি ছবিতেই ফুটে উঠেছিল বাবা হারানোর অপার কষ্ট।
কঠোর নিরাপত্তায় ‘এল প্রাদো’ সমাধিস্থলে বাবাকে শেষ বিদায় জানালেন মেসি। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন স্বজনরা।
শনিবার রোজারিওর এক ক্লিনিকে দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে। খবর পেয়ে সেখানে পরিবারসহ ছুটে আসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসিদের বাড়তি গোপনীয়তা দিতে দুপুর থেকে ‘এল প্রাদো’ সমাধিস্থলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপরও সংবাদমাধ্যমের ভিড় থাকায় ভীষণ খেপেছেন মেসি। ওপর থেকে শোকার্ত পরিবারের ছবি তোলার এই চেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সান্তা ফে পুলিশ সেই এলাকায় ড্রোন ওড়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। মেসির আইনজীবী দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন বলে জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম।
মেসির শোকে সঙ্গী হতে সমাধিস্থলের বাইরে হাজির হয়েছিলেন ভক্তরা। রোজারিও বিমানবন্দর আর কবরস্থানে ‘শক্ত থাকো, লিও, আমরা তোমাকে ভালোবাসি’ ব্যানারও দেখা গেছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকেও শোক প্রস্তাব আর ফুলের তোড়া পাঠানো হয়। ফুলের তোড়া পাঠানো হয়েছিল হোর্হের প্রিয় ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ থেকেও। রোজারিওর মেয়র পাবলো জাভকিন মেসির পরিবারকে জানিয়েছেন গভীর সমবেদনা।
রোজারিওর আবানেরাদো গ্রানদোলি ক্লাব আবেগঘন বার্তায় লিখেছে, ‘হোর্হে আমাদের ইতিহাসের অংশ ছিলেন। আমাদের ক্লাবের একজন কোচও ছিলেন তিনি। এখানে তিনি সেই ছোট্ট লিওনেলের ফুটবলের প্রথম পদক্ষেপগুলোর সঙ্গীও হয়েছিলেন।’
ইন্টার মায়ামির ব্যস্ত সূচিতে লিওনেল মেসি কতদিন রোজারিওতে থাকবেন নিশ্চিত নয় এখনো। তবে তাকে নিয়ে আসা বিমানটি ছেড়ে গেছে রোজারিও। এখন শোক কাটিয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় মেসি।




