সৈকত বিসিবির চুক্তিতে আছেন নাকি নেই

ছবি: আগামীর সময়
শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত, আইসিসি’র এলিট প্যানেলে থাকা বাংলাদেশের একমাত্র আম্পায়ার। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ২০২৫ সালে হয়ে যাওয়া আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানানোয় মোহামেডান অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়কে ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিলেন ম্যাচ রেফারি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় বিতর্কিত মন্তব্য করেন সৈকতকে নিয়ে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেন সৈকত। তবে তার পদত্যাগপত্র বিসিবি গ্রহণ করেনি। ১ বছর পর সেই পদত্যাগ পত্র বিসিবি গ্রহণ করেছে, কার্যকর হয়েছে এপ্রিল মাস শেষে। ফলে এই মুহূর্তে বিসিবির চুক্তিতে নেই সৈকত, তবে বিসিবির আম্পায়ার্স বিভাগের ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল নোমান অভি বলছেন, বিসিবির সঙ্গে সব আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি ও স্কোরারদেরই চুক্তি শেষ হয়ে গেছে জুলাই মাসে। ফলে এই মুহূর্তে কেউই চুক্তিতে নেই। নতুন চুক্তি সই হবে শিগগিরই।
আম্পায়ারদের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল নোমান অভি আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ‘বিসিবির সঙ্গে আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি ও স্কোরারদের চুক্তিটি শেষ হয়েছিল গত বছর, ডিসেম্বরে। এরপর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সৈকত ভাইয়ের সঙ্গে চুক্তিটি বাড়ানো হয়েছিল এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর নতুন চুক্তি না হওয়ায় অটোমেটিক তিনি চুক্তি থেকে বাদ পড়ে গেছেন। এটা একটা অনিচ্ছাকৃত ভুল, একটা মিসকমিউনিকেশন হয়ে গেছে। চুক্তির বাইরে গেলেও তিনি কিন্তু ম্যাচ পরিচালনা করেছেন জুনেই, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজেও তিনি আম্পায়ারিং করেছেন। একটা হচ্ছে ম্যাচ পরিচালনার ফি, যেটা তিনি পেয়েছেন। আরেকটা হচ্ছে বিসিবির চুক্তিতে থাকার বেতন। সেটা তিনি এপ্রিলের পর পাননি, এটা একটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।‘
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন মোহামেডানের ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে আম্পায়ারদের নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করায় তাকে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়ার পাশাপাশি আরও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল মোহামেডান অধিনায়কের। কিন্তু এক ম্যাচ পরই অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে সুপার লিগের ম্যাচে খেলেন তাওহীদ। এ ঘটনায় দেশের আম্পায়ারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। যার ফলশ্রুতিতে সৈকত পদত্যাগ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি বলেই জানিয়েছেন সেসময় বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান পদে থাকা ইফতেখার আহমেদ মিঠু। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, সৈকতের পদত্যাগপত্র এখন কেন আর কীভাবে গ্রহণ করা হলো। সৈকত আমাদের বলেছিল সে পদত্যাগ করতে চায়, আমরা রাজি হইনি। ফলে তার সঙ্গে বিসিবির চুক্তিটি ছিল। তারই আওতায় এরপর সৈকত ডিপিএল, বিপিএল, বাংলাদেশের ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছে। এখন যেটা হয়েছে, ওর সঙ্গে বিসিবি নতুন করে চুক্তি করেনি। কারণ, আম্পায়ারদের চুক্তির একটা মেয়াদ থাকে, সেটা নবায়ন না করায় সৈকত চুক্তির বাইরে চলে গেছে। কোনো পদত্যাগপত্র তো ছিল না।‘
অভি আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, নতুন চুক্তির কাগজপত্র সব প্রস্তুত, কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, যা আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান ইয়াসির আব্বাস ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের অনুমোদনের অপেক্ষায়। আমাদের কমিটির প্রধান ও বিসিবির প্রধান দেশের বাইরে ছিলেন তাই আমাদের নতুন চুক্তি কার্যকর করতে একটু দেরি হচ্ছে। ৩৭ জন আম্পায়ার, ৮ জন স্কোরার, ৮ জন ম্যাচ রেফারি আছেন প্রাথমিক তালিকায়। এখান থেকে কারও হয়তো ক্যাটাগরি আপ বা ডাউন হবে।
তবে চুক্তি থেকে বাদ পড়া নিয়ে বিষ্মিত সৈকত আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ‘সবার চুক্তি জুলাই পর্যন্ত আর আমার চুক্তি এপ্রিলেই শেষ কেন, এটা বিসিবিকে জিজ্ঞেস করেন। চুক্তি নবায়ন করা হয় নাই মানেই তো টার্মিনেশন।‘ সৈকত জানিয়েছেন, তার সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শুধুই মাঠের খেলা পরিচালনা নয়, আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণও এর আওতায়। আগামীতে বিসিবির তরফ থেকে নতুন চুক্তি প্রস্তাব করা হলে শর্ত ও সবরকম বিষয় দেখে সৈকত তার সিদ্ধান্ত জানাবেন, এমনটাই এই আম্পায়ার বলেছেন আগামীর সময়কে।
এই প্রসঙ্গে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, 'বিসিবি আম্পায়ার হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী সময়ে তা ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে আইসিসির এলিট প্যানেল আম্পায়ার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ও ব্যস্ততা বাড়ায় এবং বিসিবির অধীনে একই ভূমিকায় পূর্ণ মেয়াদে কাজ করার সুযোগ কমে আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেয়াদ শেষে চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে ২০২৬ সালের এপ্রিলেই বিসিবির সঙ্গে তাঁর আগের কেন্দ্রীয় চুক্তির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, পূর্ণাঙ্গ সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডে আইসিসি এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির অধীনে রাখা কোনো সাধারণ বা প্রচলিত রীতি নয়; মূলত বোর্ডের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সূচির সাথে তাঁদের বৈশ্বিক আম্পায়ারিংয়ের ব্যস্ততার সমন্বয় সাধন বেশ কঠিন বলেই এমনটা হয়ে থাকে। তবে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে শরফুদ্দৌলাকে দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সিরিজের পাশাপাশি ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস (প্রথম শ্রেণী), লিস্ট 'এ' এবং টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলোতে আম্পায়ারিংয়ের জন্য নিয়োগ দিতে পারবে বিসিবি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে বিসিবির সাথে চুক্তি শেষ হলেও ম্যাচভিত্তিক এই বিশেষ ব্যবস্থার অধীনেই গত জুন ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাঁকে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছিল বিসিবি।'




