মিসবাহ উল হক
পাকিস্তান ক্রিকেট হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভ্যস্ত

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের চরম বিপর্যয় ও পিসিবির আকস্মিক দলবদলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দেশটির সাবেক সফল টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। পাকিস্তান ক্রিকেটে দেশি ও বিদেশি কোচদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ ও দ্বিমুখী নীতি চলছে অভিযোগ তুলে সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
প্রথম দুই টেস্ট হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর সাত ক্রিকেটারের পাশাপাশি দুই কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং উমর গুলকে দেশে ফেরত পাঠায় পিসিবি। তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় সাদা বলের কোচ মাইক হেসন এবং অস্ট্রেলীয় পেসার অ্যাশলে নফকে। পিসিবির অন্দরের এই বৈষম্য নিয়ে একটি টেলিভিশন শোতে বোমা ফাটান মিসবাহ। দেশি ও বিদেশি কোচদের তুলনামূলক মূল্যায়ন করে তিনি বলেছেন, ‘এটি নির্মম সত্য যে, পাকিস্তান ক্রিকেটে দেশি ও বিদেশি কোচদের সঙ্গে আলাদা আচরণ করা হয়। বিদেশি কোচদের তুলনায় দেশি কোচদের সবসময় অনেক বেশি চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়।’
বিদেশি কোচদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ও কম জবাবদিহির বিষয়টি তুলে ধরে মিসবাহ আরও বলেছেন, ‘বিদেশি কোচদের রাখা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। যেটা আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় তা হলো— আমরা (ভক্ত, সমালোচক, গণমাধ্যম ও পিসিবি) বিদেশি কোচদের প্রতি সবসময় এক ধরনের নমনীয় মনোভাব পোষণ করি। আমরা তাদের বেশি কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দেই। দল খারাপ খেললেও তাদের জবাবদিহি থাকে নগণ্য। অথচ এর বিপরীতে, স্থানীয় কোচদের সবসময় সবার কড়া নজরদারিতে থাকতে হয়।’
পাকিস্তানের ক্রিকেট সংস্কৃতি এবং খেলোয়াড়দের মানসিক সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক এ নির্বাচক। তার ভাষায়, ‘এমন হুটহাট বাদ দিলে খেলোয়াড়দের পক্ষে পুনরায় ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। চাপের মুখে পড়ে আমাদের প্যানিক করা এবং লোক দেখানো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। আমাদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে ধীরে এগোতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা পাকিস্তান ক্রিকেটে সবসময় হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভ্যস্ত।’
ভারতীয় ক্রিকেটের সাফল্যের উদাহরণ টেনে মিসবাহ জানান, সংকটের মধ্যে ভারতের ক্রিকেটে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থেকে দীর্ঘমেয়াদে সঠিক পথে এগিয়েছে। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো তারকাদের ক্যারিয়ারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘নব্বই দশকের পর থেকে ভারতীয় ক্রিকেট ধীরে ধীরে নিজেদের সিস্টেমে বিনিয়োগ করেছে এবং আজ তারা বিশ্ব শাসন করছে। রাতারাতি কোনো ব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়। আমাদের তরুণরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সাদা বলের ক্রিকেট খেলে। লাল বলে তাদের অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত। ফলে চাপের মুখে তারা দ্রুত ভেঙে পড়ে। ভারত যেমন তাদের খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত এক্সপোজার দিয়ে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলেছে, আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে।’







