টি-টোয়েন্টি খেলাই ভুলে গেছে মেয়েরা!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, একই ফরম্যাটের এশিয়া কাপ এবং পরে এশিয়ান গেমস। টানা তিন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নারী দলের অর্জনের খাতা শূন্য। একের পর এক আসরে পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখী। ২০১৮ সালে টি-টোয়েন্টিতেই ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপ শিরোপা জিতেছিল নারী দল। পুরুষদের আগে এশিয়া কাপ জেতা নারীদের নিয়ে নারী ক্রিকেটাররা কি ভুলেই গেলেন টি-টোয়েন্টি খেলা?
প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপন এক বাক্যেই মেনে নিলেন— আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না নিগার সুলতানা জ্যোতিরা, ‘আধুনিক সময়ের টি-টোয়েন্টি মানসিকতার সঙ্গে মানাতে পারছি না আমরা। এখনকার টি-টোয়েন্টি অন্যরকম। ব্যাটিংয়ে ধরে খেলার সুযোগ নেই, আবার ব্যর্থও হওয়া যাবে না। আমরা দ্রুত খেলতে চাইলে ব্যর্থ হচ্ছি, রান করতে চাইলে ধীরে খেলছি। এই সময়ের টি-টোয়েন্টির সঙ্গে যা মানানসই নয়।’ এশিয়ান গেমসে গতকাল নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরেছে তারা। পাকিস্তানের দেওয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্যে নেমে ১১৪ রানে অলআউট।
তার আগে এশিয়া কাপে সেমিফাইনাল পার করার লক্ষ্য ঠিক করেছিল নারী দল। ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরেও লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি। গেমসে তাদের বিপক্ষে হারে শোচনীয়ভাবে, ১১৪ রানে। সেই ধাক্কায় যেন আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকে এবং ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও হতাশ করেছে।
শিপন এটাকে ভয় হিসেবেই দেখছেন, ‘আউটের ভয়ে শট নিতে পারছে না ব্যাটাররা। আরেকটা ব্যাপার হলো, যারা দলে আছে তাদের ওপর বাদ পড়ার চাপ নেই। কারণ, পর্যাপ্ত ক্রিকেটার আমাদের পাইপলাইনে নেই।’
পাইপলাইনে নারী ক্রিকেটার কমে যাওয়ার জন্য সাবেক ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ সরাসরি দায়ী করছেন মঞ্জুর হোসেনকে। জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার নারী দলের নির্বাচক ও ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, ‘এখনকার অবস্থা মঞ্জু ভাইয়ের কারণে হয়েছে। উনি এসেই দল থেকে অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুনদের নিলেন। তাদের বড় মঞ্চে খেলার অবস্থা ছিল না তখন। আমরা তৈরি হয়েছিলাম কেবল। আমাদের বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ায় দলে অভিজ্ঞতার একটা ফাঁক তৈরি হলো। বড় টুর্নামেন্টে খেলতে অভিজ্ঞতা লাগে। তা না থাকায় এখন ভুগছে দল।’
একই সঙ্গে দলের ভেতর প্রতিযোগিতাও কমে গেছে বলে মনে করছেন তিনি, ‘গত কয়েক বছরে দেখবেন একটা দল নিয়েই সব টুর্নামেন্ট খেলছে বাংলাদেশ। এতে প্রতিযোগিতার অভাব স্পষ্ট। এখন কেউ দল থেকে বাদ পড়ারও ভয় নেই। তাই চাপও নেই, চ্যালেঞ্জও নেই।’
শিপন ও রুমানা দুজনই একটা বিষয়ে একমত। নারী ক্রিকেট লিগ না হওয়ায় খেলোয়াড় সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে নিগার ও জাহানারা আলমের তর্কযুদ্ধ, যা তাল কেটে দিয়েছে নারী ক্রিকেট দলের।



