ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে বিসিবির বিকল্প প্রস্তাব

মিরপুরে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তামিম ইকবাল। ছবি: মোশারফ হোসেন
এ বছর হবে না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি; ফলে নিশ্চিতভাবেই দেশের অন্তত ৯০-১০০ জন ক্রিকেটারের বার্ষিক আয় খেলোয়াড়ভেদে ১ কোটি থেকে ২০ লাখ টাকা কমে গেল ২০২৬ সালে। বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে তাদের এই আর্থিক ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাব রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ২০ আগস্ট ‘গেম ডেভেলপমেন্ট কাপ’-এর সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে না। বিপিএল আয়োজনে গত দুই আসরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি, এই আয়োজন ঘিরে বিতর্ক এবং বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে খেলোয়াড়দের বকেয়া-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তড়িঘড়ি করে বিপিএল আয়োজন না করার পক্ষেই তামিমের অবস্থান।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অংশ নেওয়ার কারণে জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই তখন দেশের বাইরে অবস্থান করায় খেলোয়াড়দের তরফ থেকে সে সময় বিসিবির এই ঘোষণার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে ক্রিকেটাররা দেশে ফিরেছেন, রবিবার মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্তসহ জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটাররা সভা করেন শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অবস্থিত কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর কার্যালয়ে। নিজেরা আলোচনা করার পর মুশফিকের নেতৃত্বে ২০-২২ জন ক্রিকেটার সবার প্রতিনিধি হিসেবে দেখা করেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে। এ সময় বিসিবির অন্য পরিচালকরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাসির হোসেন । ছবি: আগামীর সময়
সেখানেই বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামীতে বিতর্কমুক্ত বিপিএল আয়োজনের স্বার্থে এ বছর বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতি কমাতে বিপিএলের বদলে কাছাকাছি সময়ে অন্য আরেকটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা আছে বিসিবির। সভায় ক্রিকেটারদের বিসিবি একটি প্রস্তাব দিয়েছে, ক্রিকেটাররা সেই প্রস্তাবে রাজি কি না, সেটি জানাতে তাদের এক দিন সময় দেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর আবারও ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তামিমসহ বিসিবির নীতিনির্ধারকরা।
বৈঠক থেকে বের হয়ে নাসির হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সব সময়ই প্লেয়ারদের সঙ্গে ছিল এবং আছে। আমরা বিপিএল নিয়ে কথা বলছি, জানতে চেয়েছি কেন বিপিএল হবে না? সেটি বোর্ড সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছে। বিপিএলের জায়গায় আমরা কী করলে প্লেয়ারদের জন্য ভালো হয়, তা নিয়ে আলোচনা করছি। কারণ, বিপিএল না হলে প্লেয়াররা আর্থিক দিক থেকে সমস্যায় পড়বে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ক্রিকেট বোর্ড কী করতে পারে, আমরা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।’
বিসিবির পরিকল্পনায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ ফার্স্ট নামে একটি টুর্নামেন্ট আছে, যা জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির পরিবর্তে আয়োজন করা হবে। কভিড-১৯ মহামারীর সময়ও বিপিএলের পরিবর্তে শুধু স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়েই একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল। বছরের শেষভাগে এবং আগামী বছরের শুরু, এই সময়টায় বিপিএল আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সিরিজ পিছিয়ে যেতে পারে সে সময়, তাই তখন বিপিএল না করে ঘরোয়া একটি টুর্নামেন্ট করে আগামীতে ভালোভাবে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করাই বিসিবির শীর্ষ কর্তাদের লক্ষ্য।
চলতি বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছিল না সুপার লিগ, ম্যাচ সংখ্যা কমায় কমেছে পারিশ্রমিকও। বিপিএল না হওয়ায় খেলোয়াড়দের বার্ষিক আয়ে টান পড়বে। নাসির বললেন, ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে বিসিবি, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ডের নয়। এটি ক্লাব এবং প্লেয়ারদের ব্যক্তিগত চুক্তির বিষয়। এটির দায়িত্ব সিসিডিএম বা ক্রিকেট বোর্ড নেবে না। প্লেয়ারদের অবশ্যই ক্ষতি হচ্ছে, তাই আমরা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথা বলছি, যেন তারা এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।’








