সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই ব্যাটারদের ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে তাওহীদ হৃদয় ও তানজিদ হাসানের আউট নিয়ে হয়েছিল সমালোচনা। দুই ইনিংসেই প্রায় একইভাবে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন হৃদয়।
তবে সমালোচনার জবাব দেওয়ার জন্য বেশি সময় নেননি এই ব্যাটার। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন হৃদয়। দলের কঠিন সময়ে তার ব্যাটেই ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের।
চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে সমালোচনা নিয়ে হৃদয় বলেন, সমালোচনা থাকবেই। বরং সেখান থেকে শেখার সুযোগ দেখেন তিনি, ‘কোনো পেশাতেই সমালোচনা থাকবে। ভালো করলে আপনারাই আমাদের নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেন। খারাপ করলে আপনারাই বলবেন— এটাই স্বাভাবিক। সমালোচনা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’
ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে অবশ্য নিজের ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়াকেই বড় করে দেখছেন হৃদয়। তার ভাষায়, ‘এটা আমার রিজিকে ছিল। কাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি, সেই চিন্তা করিনি। আমার চিন্তা ছিল দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া। আমি সেট হয়েছিলাম, দিন ভালো ছিল, আর বল ব্যাটে লাগছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি।’
আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন ফলের চেয়ে প্রস্তুতি ও পরিশ্রমকেই বেশি গুরুত্ব দেন হৃদয়, ‘আমার রিজিকে যেটা আছে সেটাই হবে। আগে অনেক চিন্তা করতাম কী হবে, না হবে। এখন আর এত চিন্তা আসে না। আমি ঠিকমতো প্র্যাকটিস করছি কি না, কঠোর পরিশ্রম করতে পারছি কি না, এটাই আমার কাছে প্রায়োরিটি।’
নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন হৃদয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করাই তার লক্ষ্য, ‘আক্রমণ করে খেলব— জিনিসটা এমন না। যেটা প্রয়োজন, সেভাবেই খেলার চেষ্টা করি। যদি মনে করি পরিস্থিতি বলছে আক্রমণ করা দরকার, আক্রমণ করব।’
দু-এক ইনিংসের পারফরম্যান্স দিয়ে কোনো ক্রিকেটারকে বিচার না করার আহ্বানও জানিয়েছেন হৃদয়। একই ভুল ধারাবাহিকভাবে হলে সমালোচনা প্রাপ্য বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনে কাউন্টার অ্যাটাক করাও জরুরি।
এদিকে নিজের ডাবল সেঞ্চুরির পথে সতীর্থ ব্যাটারদের কাছ থেকেও শেখার চেষ্টা করেছেন হৃদয়, ‘সেট ব্যাটার হিসেবে চেষ্টা করেছি ওদের থেকে যতটুকু নেওয়া যায়, দুইটা কথা দিয়ে হোক বা প্ল্যান দিয়ে হোক। যেভাবে তারা ব্যাট করেছে, আউটস্ট্যান্ডিং ছিল। তাদের জন্যই দল এতদূর এসেছে। যেভাবে চাপ সামলেছে, অসাধারণ এফোর্ট ছিল দুজনের কাছ থেকে।’
প্রথম টেস্টের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে বড় ইনিংস খেলে হৃদয় শুধু নিজের সমালোচনার জবাবই দেননি, দলের ঘুরে দাঁড়ানোর পথও তৈরি করেছেন।



