বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ
এবার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব ব্যাটারদের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এখন বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন পেস বোলাররা। নাহিদ রানার গতি, তাসকিন-শরিফুলের সুইং কিংবা পেস ইউনিটের সম্মিলিত আগ্রাসনে ভীতি ছড়ায় প্রতিপক্ষে। এটাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সাফল্যের ছবি। কিন্তু আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে পেস বোলিংয়ের এই ভয়ংকর চেহারা খানিকটা ফিকে হয়ে গেছে নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের ইনজুরিতে।
তাই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই টেস্ট সিরিজের লড়াইটা এবার অন্যরকম। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার চাইছেন ‘সম্মান নিয়ে ফিরতে’। এবার তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং। হাবিবুলের বিশ্বাস, পেস আক্রমণের ঘাটতি পূরণ করতে ভালো ব্যাটিংয়ের বিকল্প নেই।
সবশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ছবিটা ছিল খুব হতাশার। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি— কোনো সংস্করণেই ব্যাটিং প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ব্যাটাররা। অথচ সাম্প্রতিক অতীত বলছে, এই ব্যাটাররাই দেশে ও দেশের বাইরে টেস্ট জয়ের ভিত গড়েছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়, শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টেস্টে কিংবা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সাফল্যে বড় ভূমিকা ছিল শীর্ষ ব্যাটারদের। তাই একটি ব্যর্থ সিরিজে না তাকিয়ে অতীতের ওই সিরিজগুলো থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে পারেন ব্যাটাররা। গত জুনে শ্রীলঙ্কা সিরিজে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি ছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের ব্যাটে। এরপর আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও ধারাবাহিকতার প্রমাণ রাখেন সেঞ্চুরি করে। মুশফিকুর রহিমও শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন সিরিজে তিনটি সেঞ্চুরি করে দেখিয়েছেন পুরনো চাল এখনো ভাতে বাড়ে।
মুমিনুল হক সেঞ্চুরি না পেলেও শেষ ১০ ইনিংসে ছয়টি হাফসেঞ্চুরি করে ছিলেন সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটারদের একজন। ওপেনিংয়ে সাদমান ইসলাম কিংবা নিচের দিকে মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। ফিরিয়ে আনতে পারেন ২০২৪-এ পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্মৃতি।
অজিদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে এই ব্যাটাররাই দলের ভরসার নাম। তাসকিন-তাইজুল বাদে বাকি অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিতে তাদের ব্যাটেই তাকিয়ে থাকবে দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাফল্য পেতে হলে এক-দুজন নয়, পুরো ব্যাটিং ইউনিটকেই দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সব সফরকারী দলের জন্যই এই চ্যালেঞ্জ থাকে। বড় জুটি গড়তে হবে, নতুন বল সামলাতে হবে, ইনিংস লম্বা করতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের জন্য এবার পেস আক্রমণের সীমাবদ্ধতা ঢাকতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে স্কোরবোর্ডে বড় রান তোলা।
হাবিবুল বাশারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, জিম্বাবুয়ে সফরের ব্যাটিং ভুলে যেতে হবে, ‘জিম্বাবুয়েতে আমরা কিন্তু বোলিংয়ের জন্য হারিনি। হেরেছি ব্যাটিংয়ের জন্য। টেস্ট, ওয়ানডে, এমনকি টি-টোয়েন্টিতে আমরা সিরিজ জিতলেও ভালো ব্যাটিং করিনি। অস্ট্রেলিয়ায় ওই রকম ব্যাটিং করলে অবশ্যই বিপদে পড়বে দল।’ তবে তিনি ব্যক্তিগত কীর্তির গুরুত্বও আলাদা করে তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ একজনের দারুণ পারফরম্যান্স বদলে দিতে পারে পুরো দলের আত্মবিশ্বাস।
হাবিবুলের কথায়, ‘জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সেঞ্চুরি করা আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার মধ্যে অনেক পার্থক্য। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করা বা ৫ উইকেট নেওয়া যে কারও ক্যারিয়ারে বড় ঘটনা হতে পারে। এই সিরিজে যে পারফর্ম করবে, সেটিই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হয়ে থাকবে। আমি চাই দলের সবাই এই চ্যালেঞ্জটা নিক।’
নাজমুল-মুশফিকরা এই চ্যলেঞ্জ নিতে পারলে অন্যরকম হতে পারে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের গল্পটাও।




