শূন্যতার পর লিটনের পূর্ণতা

শূন্যতার পরেই বোধহয় পূর্ণতা আসে! অন্তত লিটন দাসের ক্যারিয়ারে এটাই সত্য। অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন বার আউট হন শূন্য রানে। জাপানে এশিয়ান গেমসেও লিটনের ব্যর্থতা ডেকে এনেছে বিদ্রূপ। অথচ আবুধাবির ঊষর মরু তাকে দিল উজাড় করে। এক টেস্টে আট ডিসমিসাল, খালেদ মাসুদ পাইলটের রেকর্ড ভেঙে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। ডেনিস থম্পসন লিন্ডসের সঙ্গে এক টেস্টে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ডে এখনই ভাগ বসিয়েছেন লিটন, সামনে সুযোগ আছে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। সেই সঙ্গে টেস্টে সপ্তম সেঞ্চুরি, উইকেটরক্ষকের মধ্যে কুমার সাঙ্গাকারা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ঋষভ পান্তদের সঙ্গে একই সমান্তরালে লিটন চলে এসেছেন সেঞ্চুরির সংখ্যায়।
লিটনের সেঞ্চুরি আর মেহেদী হাসান মিরাজের হাফসেঞ্চুরিতে আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে আফগানিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্যই ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ১০২ রান করে লিটন আউট হলে ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত, স্কোর বোর্ডে তখন বাংলাদেশের রান ৭ উইকেটে ৩৭২। সঙ্গে প্রথম ইনিংসে পাওয়া লিড মিলিয়ে আফগানদের সামনে ৪৭৯ রানের এক হিমালয়সমান লক্ষ্যই রেখেছে বাংলাদেশ। জবাবে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তান করেছে ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩২ রান। পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য আফগানদের চাই আরও ৩৪৭ রান, বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট।
দিনের শুরুতে লিটন আর মিরাজ যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন একজনের নামের পাশে ৫ রান আর অন্যজনের পাশে শূন্য। নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংস ঘোষণা দেওয়ার সময় একজন করলেন সেঞ্চুরি, অন্যজন হাফসেঞ্চুরি। আরও একবার লিটন এবং মিরাজের জুটিতে বিপদ কাটল বাংলাদেশের। সপ্তম উইকেটে এ দুজন মিলে যোগ করেছেন ১৪৯ রান, যার ফলে চতুর্থ ইনিংসের লক্ষ্যটা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে আফগানদের।
বাংলাদেশকে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতে দেওয়ার জন্য নিজেদেরই দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন আফগান ক্রিকেটাররা। শহিদুল্লাহ কামাল স্লিপে ক্যাচ ফেলেছেন, যখন লিটনের রান ছিল ১৪, কায়েস আহমেদ একটা রিটার্ন ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি। এমনকি একবার কটবিহাইন্ডও হয়েছিলেন লিটন, কিন্তু আম্পায়ার শুনতে পাননি বলে ব্যাট লাগার আওয়াজ, রিভিউ শেষ হয়ে যাওয়াতে আফগান অধিনায়ক আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জও জানাতে পারেননি। মিরাজও জীবন পেয়েছেন ১৯ রানে, স্লিপে ক্যাচ পড়েছে। দুবার রানআউট হতে হতে বেঁচে গেছেন। অতীতে বাংলাদেশ বহুবার প্রতিপক্ষের সেরা ব্যাটারকে এমন ‘অমূল্য উপহার’ দিয়েছে, বিনিময়ে জুটেছে রানের বোঝা। এবার সেই চেনা দাওয়াই বাংলাদেশও দিল নবীন প্রতিপক্ষকে। বলে রাখা ভালো, আফগানিস্তানের ফিল্ডিং কোচ শেন ম্যাকডারমট কিন্তু এর আগে বাংলাদেশেরই দায়িত্বে ছিলেন!
ম্যাকডারমটের শেখানো বিদ্যা সহজে ভুলে যাননি তার সাবেক শিষ্যরা, তানজিদ তামিম তার ছোট্ট টেস্ট ক্যারিয়ারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ সব ক্যাচ ছাড়ছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে ছেড়েছিলেন স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ, এবার আবুধাবিতে হাসান মাহমুদের বলে রহমত শাহর ক্যাচটি ছাড়লেন। বলটি গড়িয়ে চারও হলো। সেই রহমত শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ৫১ রানে।
লক্ষ্যটা অসাধ্য জেনেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আফগানরা। সাদিকুল্লাহ আতাল অটল হয়ে আছেন উইকেটে, ১২৬ বল খেলে ৩৫ রানে অপরাজিত। অন্যপ্রান্তে হাশমতউল্লাহ শাহিদি ২৭ বলে ১৯ রানে অপরাজিত।
আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররা ভালো করেছেন, ব্যাটাররাও ভালো করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত হতাশ করেছেন স্পিনাররা। আফগানদের প্রথম ইনিংসে তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান আর মেহেদী হাসান মিলে ৮৯.১ ওভারের ভেতর ৫২ ওভার বোলিং করেছেন, তিন স্পিনারের শিকার ১ উইকেট এবং সেটিও লিটনের দারুণ স্টাম্পিংয়েরই কৃতিত্ব। দ্বিতীয় ইনিংসে এই ত্রয়ী মিলে ৫০ ওভারের ভেতর ২৮ ওভার বল করেছেন, কোনো উইকেট নেই। টেস্টের পঞ্চম দিনে, চতুর্থ ইনিংসে স্পিনাররা যদি উইকেট এনে না দেন, তাহলে ম্যাচটি কী করে জিতবে বাংলাদেশ!



