কাজেই আসেনি ৪ কোটি টাকার গ্রিন হাউজ

খুলে ফেলা হচ্ছে গ্রিন হাউজের ছাউনি। ছবি: আগামীর সময়
বর্ষা মৌসুমে ক্রিকেটাররা নির্বিঘ্নে অনুশীলন করবেন— এ ধারণা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে দেখে আসা ফ্যাসিলিটির আদলে মিরপুর একাডেমি মাঠে গড়ে তোলা হয়েছিল গ্রিন হাউজ। যেখানে স্টিল কাঠামোয় প্লাস্টিক পর্দায় মোড়ানো কাভারের নিচে ব্যাট-বলের অনুশীলন করার কথা ছিল ক্রিকেটারদের। হতাশার বিষয়, গত দুই বছরে একদিনও এ গ্রিন হাউজে অনুশীলন করতে পারেননি বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার।
নতুন খবর, অপসারণ করা হচ্ছে এ গ্রিন হাউজ। ২০২৩ সালে ৪ কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছিল এ ফ্যাসিলিটিজ। কোনো কাজে না আসায় এখন অচল কাঠামো সরিয়ে আগের খোলা পিচ-মাঠে ফিরছে অ্যাকাডেমি মাঠটি।
বিসিবির বর্তমান কমিটির ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম। ক্রিকেটারদের অনুশীলন সুবিধা দেখাও তার দায়িত্ব। জানিয়েছেন এ গ্রিন হাউজে অনুশীলনের কোনো অবস্থাই নেই, ‘এটা আমাদের পরিবেশ অনুযায়ী একেবারে ভুল উদ্যোগ ছিল। এ মাঠে এমন ফ্যাসিলিটিজের কোনো কাজ নেই। এটা একেবারে অর্থহীন হয়ে পড়েছে। ক্রিকেটাররা যেহেতু অনুশীলন করতে পারছে না, জায়গাটাও নষ্ট হচ্ছে; তাই আমরা এ গ্রিন হাউজ তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা তাদের বর্ষা মৌসুমে এমন গ্রিন হাউজ সুবিধায় অনুশীলন করেন। আগের বোর্ডে গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান মাহবুবুল আনাম ওই সুবিধা দেখে বর্ষা মৌসুমে ক্রিকেটারদের অনুশীলনের কথা চিন্তা করেন। ঘটা করে তৈরি হয় এ গ্রিন হাউজ।
সমস্যা শুরু হয় কাঠামোটি পুরোপুরি প্রস্তুতের পরই। ইট-সিমেন্টের ইনডোর না হওয়ায় এর ভেতরে এসি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তাই বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এ গ্রিন হাউজের ভেতরে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। ক্রিকেটারদের অনুশীলন করা হয়ে পড়ে কঠিন। এজন্য ব্যবহারই করা যায়নি ৪ কোটির গ্রিন হাউজ।
আগের বোর্ডের এ উদ্যোগের সময় ক্রিকেট অপারেশনসের ডেপুটি হিসেবে ছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। এ সিদ্ধান্তটা যে ভুল হয়েছে, তা মেনে নিয়ে বর্তমান ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার বলেছেন, ‘ক্রিকেটারদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই তখন এ গ্রিন হাউজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে এটা প্রস্তুত করা হয়, তা কাজে আসেনি।’
এরপর যোগ করেন, ‘এতে অনেকটা অর্থ নষ্ট হয়েছে। এটাও ঠিক যে, প্রয়োগ না করলে তো সঠিক না ভুল সেটা বুঝতাম না।’
গ্রিন হাউজ সরিয়ে এখন অ্যাকাডেমি মাঠের পশ্চিম অংশে ৩৭টি পিচ তৈরি করবে বিসিবি। সেখানে আটটি কংক্রিট এবং আটটি টার্ফ উইকেট থাকবে। এর পাশাপাশি কিছু কালো মাটির, কিছু বাউন্সি, কিছু ব্যাটিং, কিছু স্পিনিং— এমন করে বিভিন্ন কন্ডিশন উপযোগী করে পিচ তৈরি করা হবে। যেন অ্যাকাডেমি মাঠের এ অংশে ক্রিকেটাররা বিভিন্ন কন্ডিশনের পিচে অনুশীলন করতে পারেন।

